লঞ্চে একদিনে ঘুরে আসুন ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর

 
 
 

 
আমরা যারা শহুরে বসবাস করি তারা প্রতি নিয়ত কাজের মাঝে নিজেদের এমন ভাবে বন্ধি করে রেখেছি যে কাজ ছাড়া আমাদের আর কিছুই মাথায় থাকেনা আমাদের হাতে সময়  অনেক কম দিন থেকে রাত আমাদের কাটে ব্যস্ততার মধ্যে  দিয়ে যেখানে দম ফেলার মুহূর্তগুলোও ঠিকমতো পাওয়া যায় না, আর সেখানে কোথাও ঘুরে বেড়ানোর সময় বের করা  সেটাতো কল্পনা মাত্র। তবু ঘুরে বেড়ানোর সময় টা এক ধরনের বিলাসিতাই বটে কিছু কিছু মানুষের জন্য আর তাই হয়তো ভ্রমণবিলাসী এক বিশাল মন থাকা সত্ত্বেও আমাদের কোথাও বেড়িয়ে আসা হচ্ছে না  বান্দরবানের কোনো পাহাড়ে উঠে মেঘ দেখা আর কক্সবাজারের সমুদ্রের গান শোনা কিছু সময় একান্তই নিজেকে নিয়ে থাকা কোন এক সুন্দযময় স্থানে এই ইচ্ছাগুলোও তাই থেকে যাচ্ছে অপূর্ণ

আরো পড়ুন: পতাকা একাত্তর ভাস্কর্য

কিন্তু আমি মনে করি আমাদের যদি ঘুরে বেড়ানোর মন দৃষ্টি থাকে তাহলে অনেক কম সময়ে এবং কম টাকায়ও চাইলে আমরা দারুণ কিছু মুহূর্ত লুফে নিতে পারি। আমাদের শহুরে জীবনের আশপাশ থেকেই ঢাকার ভ্রমণপ্রেমী ব্যস্ত মানুষ আমরা, যাঁরা সময়ের অভাবে দূরে কোথাও যেতে পারছিন না, তাঁদের জন্য ঢাকার আশপাশেই রয়েছে চমৎকার কিছু জায়গার বর্ণনা দেওয়া  একটু হাতে সময় নিয়ে আর পকেটে কিছু টাকা নিয়ে চাইলেই চমৎকার একটিশর্ট ট্যুর দিয়ে আসতে পারেন
আর তেমনই একটি যায়গার কথা আমি বলব অল্প সময়ে এবং অল্প জার্নিতে সুন্দর একটি ট্রিপ দিয়ে আসতে পারেন চাঁদপুরে  আর যদি চাদপুরই ভাবছেন, তাহলে সেটি লঞ্চেই কেন নয়? আসলে এই ট্যুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হচ্ছে এর যাত্রাপথ গ্রামের মানুষগুলো ছাড়া শহরের খুব বেশি মানুষের আসলে নদীপথে চলাচলের তেমন অভিজ্ঞতা নেই তাই ভ্রমনটি তাদের জন্য।লঞ্চ ভ্রমণ, নদী, খোলা বাতাস, মিনি কক্সবাজার, চাঁদপুরের ইলিশ বিখ্যাত আইসক্রিম এবং মিষ্টি সব মিলিয়ে খুব ভালো একটা রিফ্রেশমেন্ট

যেভাবে দিনে দিনে ঘুরে আসবেন:

যাওয়াঃ সদরঘাট থেকে সকাল /:৩০ থেকে এক/আধ ঘন্টা পরপরই লঞ্চ ছাড়ে৷ সকাল সাড়ে আটটার লঞ্চে উঠবেন সদরঘাট থেকে বোগদাদীয়া- ছাড়ে তখন ফার্স্ট ক্লাস সিট ৩০০ টাকা করে বন্ধুবান্ধব মিলে গেলে ১০০ টাকা দরে টিকেট কিনে ছাদে চলে যেতে পারেন পুরো সময় আড্ডা দিতে দিতে কেটে যাবে বা ৯:৫০ এর মিতালি লঞ্চে ও যেতে পারেন। লঞ্চটির ভেতরের পরিবেশ যথেষ্ট পরিপাটি এবং পরিস্কার সুন্দর সাড়ে তিন ঘণ্টার ভেতরেই পৌঁছে যাবেন চাঁদপুর ঘাটে
আগের জানা এখন কম বেশি হতে পারে আবার এক এক লন্ঞের এক এক ভাড়া ভাল করে জেনে নেবেন।
ভাড়াঃ ডেক- ১০০
চেয়ার- ১৫০
কেবিন- সিঙেল নন এসি ৫০০
ডাবল নন এসি ৮০০
এসি সিঙেল ১০০০
এসি ডাবল ১৫০০
নেমেই ঘাট থেকে ফেরার সিডিউল টা জেনে নিবেন১২টায় পৌঁছে সেখানে হালকা নাস্তা করে নিতে পারেন সিঙ্গারা/পুরি পাওয়া যায় গরম গরম
অথবা খাবার ও খেয়ে নিতে পারেন বা ঘুরে এসে ও খেতে পারেন নেমে চাঁদপুর লঞ্চঘাটেই খাবার হোটেল আছে কয়েকটা সবগুলোতে দাম প্রায় একই ইলিশ প্রতি পিস ১২০/-
খাওয়াদাওয়া শেষ করে চলে যান কালীবাড়ি ঘাটের থেকেই অটো পাবেন জনপ্রতি /- টাকা, অটো রিজার্ভ নিলে ১০০ টাকা নেবে।
কালীবাড়ি নেমে জিজ্ঞেস করলেই স্থানীয়রা দেখিয়ে দিবেওয়ান মিনিটমিষ্টির দোকান মিষ্টির দোকানেই পাওয়া যায় এই আইস্ক্রিমগুলো দাম ৪০/- স্বাদ- অনেকটায়  ছোটবেলায় খাওয়া আইসক্রিম গুলোর মত ওখানকার মিষ্টি গুলো খুবই মজা এবং খুব বেশি মিষ্টি, দাম ১০/-
মিষ্টি খাওয়া শেষে সেইখান থেকে বের হয়ে কালিবাড়ি ব্রিজের গোড়ায় হেঁটে যাবেন সবর্চ্চ (২ মিনিট লাগবে)। ব্রীজের গোড়া থেকে অটো ভাড়া করবেন বিখ্যাত শাহাবুদ্দীন স্কুল এন্ড কলেজ পর্যন্ত। রিজার্ভ নিলে ১৪০/১৫০ টাকা নেবে। যদি আপ ডাউনের জন্য রিজার্ভ করেন তাহলে ৩০০ টাকার বাইরেও একটু বেশি টাকা দেওয়া লাগবে ওয়েটিং চার্জ হিসেবে। সেখানে ঘোরার মতো তেমন কোন যায়গা না থাকলেও রয়েছে ছবি তোলার জন্য অনেক সুন্দর যায়গা ।  সবাই এইখানে আসে মূলত ছবি তোলার জন্যই।সেইখান  থেকে অটোতে করে চলে যান বড় স্টেশন বড় স্টেশনেও ভালো খাবারের হোটেল আছে সেইখানেও পেট পুরে ভাত-ভর্তা-ইলিশ খেতে পারবেনডিমসহ ইলিশ খেতে চাইলে নিজেই গিয়ে ইলিশের পিস সিলেক্ট করে দিবেন
সেখানে ভরপেট খেয়ে পাশেই চলে যাবেন বড় স্টেশন পার্কেএইখানে মেলা/রাইড নাগোরদোলা উপভোগ করতে পারবেন। সেখানে ইলিশের একটা ভাস্কর্য রয়েছেযা দেখতে ভুলবেন না সেইটার সামনে পিছে দাঁড়ায়ে ছবি তুলে চলে তারপর চলে যাবেন পার্কের শেষ মাথায় আর শেষ মাথায় দেখে নিবেন তিন নদীর মোহনাআর এই মাথায় আসতে আসতে দেখবেন আরও অদ্ভুত আকৃতির রক্তের ফোঁটার একটা ভাস্কর্যতারপর উঠে যান ট্রলারে ট্রলার এভেইলেবল থাকে ওখানেই জনপ্রতি ৭০/- করে (যদিও ঈদ উপলক্ষে ১০০/- করে নিয়েছে) যাওয়া আসার ফি একবারই দিতে হয় প্রথমে আসার সময় যতক্ষণ ইচ্ছে সময় কাটিয়ে যেকোনো ট্রলারে ফেরা যায় অবশ্যই তা বিকেল ৫ঃ৩০ টার মধ্যে
ত্রি-মোহনা যায়গাটা আসোলেই মিনি কক্সবাজার খুবই সুন্দর এবং উপভোগ্য ওখানে গিয়ে কেউ হতাশ হবেন না আমার বিশ্বাস আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই
সেখানে নদীতে ঝাপাঝাপি করে ট্রলারে করে ফিরে আসুন বড় স্টেশনে বড় স্টেশন থেকে অটোতে লঞ্চঘাট পাব্লিক টয়লেটে বা লঞ্চঘাট খাবার হোটেলে বা লঞ্চে কাপড় চেঞ্জ করা যায়

#ফেরাঃ   ঘন্টায় চলে আসুন ঢাকার সদরঘাটে আসার সময় লঞ্চের ছাদে একবার অবশ্যই উঠবেন
 


0 Comments