৩০টি সেরা মিষ্টি জাতীয় খাবারের রেসেপি



1.  ছানার পোলাও

উপকরণ :

১. ছানা ৩০০ গ্রাম,

২. ময়দা এক চা চামচ,

৩. বেসন এক চা চামচ,

৪. কর্নফ্লাওয়ার এক চা চামচ,

৫. চিনি আধা কাপ।

প্রণালি :

> প্রথমে চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিন।

ছানার মধ্যে ময়দা, বেসন ও কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে খুব ভালোভাবে মেখে হাতের তালু দিয়ে মথে মণ্ড তৈরি করে নিন।

এই মণ্ড থেকে পরিমাণমত মণ্ড নিয়ে ছোট ছোট বল আকারে গড়ে গরম ডুবো তেলে ভেজে চিনির সিরায় ডুবিয়ে তুলে নিন।

বাকি ছানার মণ্ড নিয়ে একটা ঝাঁঝরিতে নিয়ে ঢেলে ঢেলে পোলাও এর মতো আকার করে গরম তেলে ভেজে নিন।

তারপর চিনির সিরায় দিয়ে তুলে নিন।

এবার এই পোলাও ও লাল ভাজা মিষ্টি একত্রে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার ছানার পোলাও।

2.  জর্দা

উপকরণ :
১. পোলাও চাল ১কাপ,
২. ঘি ১/২ কাপ,
৩. চিনি ১.৫ কাপ,
৪. লবঙ্গ ৫-৬টি,
৫. দারচিনি ১ টুকরা,
৬. এলাচ ৪-৫টি,
৭. আনারসের মোরব্বা – প্রয়োজনমতো,
৮. জর্দার রঙ ১/৪ চা চামচ,
৯. মাওয়া সামান্য।

প্রণালি :

> বেশি করে পানি পাতিলে দিয়ে চুলায় বসান। ফুটে উঠলে ধোয়া চাল দিয়ে দিন। চালে ফুট ধরলেই রঙ দিন। চাল সিদ্ধ হতেই ঝাঝরিতে ঢালুন। খেয়াল রাখবেন যাতে বেশি নরম না হয়ে যায়। আবার বেশি শক্তও যেন না থাকে।

> এবার অন্য পাতিলে ঘি দিন। দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ দিন। একটু পরই চিনি দিন। আঁচ কমিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। চিনি গলে গেলেই রংগীন ভাত, মোরব্বা দিন। একটু নেড়েই চুলের আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে রাখুন। আধ ঘণ্টা পরে একবার নেড়ে সব মিশিয়ে দিন।

> আবার আধ ঘণ্টা পর চুলা থেকে নামিয়ে একটা ছড়ানো ডিশে ঢেলে নিন। কাঁটা চামচ দিয়ে একটু ছড়িয়ে দিন। আরও সুন্দর করে ছোট ছোট গোলাপজাম বানিয়ে উপরে দিতে পারেন। পেস্তা বাদাম দিতে পারেন। সবশেষে উপরে মাওয়া ছিটিয়ে দিন।

3.  শির খোরমা

উপকরণ :
১. সেমাই ১৫০ গ্রাম,
২. তরল দুধ ২ লিটার,
৩. খেজুর ১ কাপ (বিচি ফেলে, লম্বা করে কাটা),
৪. কয়েক রকমের বাদাম ১ কাপ,
৫. ঘি আধা কাপ,
৬. কনডেন্সড মিল্ক ১ কাপ,
৭. ফ্রেশ ক্রিম ১ কাপ,
৮. কিশমিশ ১০০ গ্রাম,
৯. এলাচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
১০. চিনি আধা কাপ।

প্রণালি :

> প্রথমে ঘি দিয়ে তাতে সেমাইগুলো ভেজে নিতে হবে। একটি পাত্রে ২ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে অল্প আঁচে দুধ ঘন করে দেড় লিটার করতে হবে। এতে খোরমা, এলাচগুঁড়া, চিনি, কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। এবার জ্বাল হতে থাকা দুধে সেমাই ও ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে ৫ মিনিট রান্না করতে হবে। অল্প ঘি গরম করে তাতে বাদাম আর কিশমিশ সোনারি–বাদামি করে ভেজে শির খোরমার ওপর ছড়িয়ে দিতে হবে।

4.  কমলার স্বাদে পুডিং

উপকরণ :
১. কনডেন্সড মিল্ক ১ টিন,
২. কমলা বা মালটার রস দেড় কাপ,
৩. ডিম ৪টি,
৪. ক্যারামেলের জন্য চিনি ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি :

> যে পাত্রে পুডিং তৈরি করবেন, তাতে চিনি নিয়ে চুলায় হালকা আঁচে পাত্রটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ক্যারামেল তৈরি করে নিন। ক্যারামেল জমাট বাঁধা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অন্য একটা বড় বাটিতে ডিম ফেটিয়ে এর মধ্যে কমলার রস ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটা ছেঁকে নিন। পুডিংয়ের পাত্রে ক্যারামেলের ওপর মিশ্রণটা ঢেলে দিন। বড় একটা সমতল কড়াই বা হাঁড়িতে অল্প পানি নিন। এবার পুডিংয়ের পাত্রটি বসিয়ে ঢেকে চুলায় আঁচ দিয়ে দিন।

5.  আমের পিউরি

উপকরণ :
১. তরল দুধ ১ কাপ,
২. গুঁড়া দুধ সিকি কাপ,
৩. কনডেন্সড মিল্ক আধা কৌটা,
৪. এলাচ দানা গুঁড়া আধা চা-চামচ,
৫. আমের টুকরা আধা কাপ,
৬. বাদাম কুচি অল্প কিছু,
৭. ঘি ২ চা-চামচ।

প্রণালি :

> প্রথমেই চুলায় একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিতে থাকুন। দুধ যখন ফুটে উঠবে, তখন একে একে ঘি, গুঁড়া দুধ, এলাচদানা গুঁড়া ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে ভালোমতো নেড়ে নিন। কিছুক্ষণ এভাবে করে নামিয়ে রাখুন। মিশ্রণটি হালকা ঠান্ডা হলে এতে আমের পিউরি দিয়ে আবার ভালোমতো মিশিয়ে নিন। এবার এটি পরিবেশন পাত্রে ঢেলে ওপরে আমের টুকরা ও বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

6.  খোরমার সেমাই

উপকরণ :
১. ৮ কাপ বা ২ কেজি পরিমান গুঁড়া দুধ,
২. ১০০ গ্রাম সেমাই,
৩. ১১৫ গ্রাম কনডেন্স মিল্ক,
৪. চিনি স্বাদমত,
৫. ১০-১২ টা এলাচ,
৬. ১০-১২ টা খোরমা লম্বা করে ফালি করা,
৭. আধা কাপ পরিমান পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম, কিসমিস,
৮. সামান্য লবণ।

প্রণালি :

> দুধ গরম করে তাতে চিনি, আর কনডেন্স মিল্ক, এলাচ খোরমা এবং একটু লবন দিন। ১৫-২০ মিনিট নাড়া চাড়া করে তাতে সেমাই দিয়ে দিন। এবার দুধ ঘন হয়ে এলে তাতে কেটে রাখা বাদাম আর কিসমিস মেশান এবং একটি পাত্রে ঢেলে পছন্দ মত সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
7.  সেমাই দুধ

উপকরণ :
১. দুধ ২ লিটার,
২. মোটা সেমাই আধা কাপ (তিন রঙের সেমাই হলে ভালো),
৩. চিনি দেড় টেবিল চামচ,
৪. মাওয়া আধা কাপ,
৫. গুঁড়া দুধ ১ কাপ,
৬. কর্ন ফ্লাওয়ার ৪ টেবিল চামচ।

সাজানোর জন্য যা যা লাগবে :
১. ক্রিম ১ কৌটা,
২. পাকা আম, বেদানা, কলা, আঙুর কিউব করে কাটা ২ কাপ,
৩. বাদামকুচি আধা কাপ,
৪. জেলো সবুজ ও লাল ১ কাপ (কিউব করে কাটা)।

প্রণালি :

> অল্প গরম দুধে মাওয়া গলিয়ে নিয়ে এর মধ্যে বাকি দুধ দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে কাস্টার্ড বানিয়ে নিতে হবে। এরপর একটু ঠান্ডা দুধ দিয়ে গুঁড়া দুধ ও কর্ন ফ্লাওয়ার গুলে নিতে হবে যাতে কোনো দানা না থাকে। এটা কাস্টার্ডে দিয়ে জ্বাল দিন। এতে সেমাই দিয়ে নেড়ে রান্না করুন, চিনি মেশান। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ক্রিম মিশিয়ে নিন।
> এবার এতে টুকরা করা মিষ্টি, ফল, বাদামকুচি কিছুটা রেখে বাকিটা মিশিয়ে নিতে হবে। পরিবেশন পাত্রে ঢেলে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

8.  কাস্টার্ড সেমাই

উপকরণ :
১. লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট,
২. ডিমের কুসুম ২টি,
৩. চিনি স্বাদমতো,
৪. তরল দুধ ১ থেকে দেড় কাপ,
৫. ঘন দুধ ২ কাপ,
৬. চায়না গ্রাস ১০ থেকে ১২ গ্রাম,
৭. ভ্যানিলা ফ্লেভার ১ চা-চামচ।

প্রণালি :

> একটি পাত্রে চায়না গ্রাস কুচি কুচি করে কেটে আধা কাপ পানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবার জ্বাল দেওয়া ঘন দুধে চিনি মিশিয়ে গরম অবস্থায় লাচ্ছা সেমাই দিয়ে রান্না করে নিন। আলাদা একটি পাত্রে ডিমের কুসুম ও চিনি দিয়ে ফেটে নিন। এবার চুলায় একটি হাঁড়িতে বাকি তরল দুধে চায়না গ্রাস মিলিয়ে চুলায় দিন। নেড়েনেড়ে চায়না গ্রাস গলিয়ে নিন। এবার নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করুন। এরপর ডিমের মিশ্রণ দিয়ে আবার খুব কম তাপে অনবরত নাড়ুন। খেয়াল রাখতে হবে, ডিম যেন জমে না যায়। এবার নামিয়ে ব্লেন্ড করে নিয়ে সেমাইয়ের মিশ্রণে ঢেলে ভালোমতো মিশিয়ে নিন। পছন্দমতো পাত্রে ঢেলে সারা রাত না হলেও ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিন। পরে মোল্ড থেকে উলটে বের করে ওপরে ইচ্ছেমতো বাদাম বা মাওয়া দিয়ে পরিবেশন করুন।

9. অরেঞ্জ জেলো

উপকরণ :
১. শর্ট অরেঞ্জ জেলো ১ প্যাকেট,
২. বিভিন্ন ফল (আপেল, কমলা, বেদানা, কিউই ছোট টুকরা করে কাটা) পরিমাণমতো।

প্রণালি :

> প্যাকেটের গায়ে লেখা নিয়ম অনুযায়ী জেলো গুলিয়ে নিন। এবার পরিবেশন পাত্রে ফলের টুকরা পরিমাণমতো দিয়ে ওপরে জেলো মিশ্রণটি ঢেলে দিন। জমে গেলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

10.       খেজুর গুড়ের শাহি ফিরনি

উপকরণ :
১. দুধ ১ লিটার,
২. পানি ১ কাপ,
৩. পোলাওয়ের চাল ১ মুঠো,
৪. খেজুরের গুড় আধা কাপ,
৫. মাওয়া আধা কাপ,
৬. কোরানো নারকেল আধা কাপ,
৭. চিনি ১ টেবিল চামচ,
৮. এলাচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৯. দারুচিনি ১টা,
১০. কাজুবাদাম পেস্ট ১ টেবিল চামচ,
১১. বাদাম অল্প পরিমাণ (সাজানোর জন্য)।

প্রণালি :

> চাল ২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে আধা ভাঙা করে নিতে হবে। দুধ, পানি ও চাল দিয়ে চুলায় বসিয়ে বারবার নেড়ে দিন। চাল ও দুধের মিশ্রণ যেন দলা না হয়। এবার এতে নারকেল মিশিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে নেড়ে চাল সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ হয়ে এলে চিনি দিয়ে জ্বাল করুন। তারপর কুচি কুচি করে রাখা গুড় মিশিয়ে দিন। দুধে গুড় মেশাতে গিয়ে অনেক সময় দুধ ফেটে যায়। তাই গুড় মেশানোর আগে অল্প চিনি দিয়ে জ্বাল করে নিয়ে বা চুলা থেকে নামিয়ে গুড় মিশিয়ে নিন। গুড় মেশানো হলে নেড়ে নেড়ে ঘন করে মাওয়া ও কাজুবাদাম পেস্ট মিশিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

11.       বুন্দিয়া রাবড়ি

উপকরণ
রাবড়ির জন্য :
১. ঘন দুধ ২ কাপ,
২. ছানা আধা কাপ,
৩. ঘি ২ টেবিল চামচ,
৪. চিনি স্বাদ মতো,
৫. ক্রিম বা দুধের সর ২ টেবিল চামচ,
৬. পেস্তা ও কাঠবাদাম কুচি করা পরিমাণ মতো,
৭. জাফরান সাজিয়ে দেওয়ার জন্য যতটুকু লাগবে।

বুন্দিয়ার জন্য :
১. বেসন ১ কাপ,
২. তেল ১ চা-চামচ,
৩. পানি পরিমাণমতো,
৪. খাওয়ার কমলা রং আধা ফোঁটা।

সিরা তৈরির জন্য :
১. চিনি দেড় কাপ,
২. পানি ১ কাপ,
৩. এলাচ ২ বা ৩টি,
৪. কমলার রস ১ টেবিল চামচ,
৫. তেল ভাজার জন্য।

প্রণালি :

বুন্দিয়া-
বেসন, ১ চা-চামচ তেল ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে একটি ঘন কিন্তু থকথকে নয় এমন একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন, যেন চামচে নিয়ে ঢাললে মিশ্রণটি ঘন হয়ে নিচে পড়তে থাকে। এবার এতে খাওয়ার রং মিশিয়ে নিন। আরেকটি পাত্রে সিরার উপকরণ দিয়ে চুলায় দিন। কিছুক্ষণ জাল দিয়ে ঘন আঠালো সিরা তৈরি করে নিন। এবার একটি গভীর পাত্রে পর্যাপ্ত তেল গরম করে নিন। ছিদ্র ছিদ্র ছড়ানো চামচ তেলের প্রায় আধা হাত উপড়ে রেখে ওর মধ্যে বেসনের মিশ্রণ একটু একটু করে ঢালুন। দেখবেন তেলের মধ্যে সুন্দর বুন্দিয়া তৈরি হয়েছে। এই বুন্দিয়া ৪০ বা ৫০ সেকেন্ড পরেই তেল থেকে তুলে আগেই তৈরি করে রাখা সিরায় ডুবিয়ে দিন। রাবড়ির ছানা হাত দিয়ে ভালোমতো ময়ান করে মিহি করে নিন। একটি প্যানে ঘি গরম করুন, তাতে ছানা ভেজে নিন পাঁচ মিনিট। দুধের সর দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভুনে বাদাম ও চিনি দিন। এভাবে দুই মিনিট নেড়েচেড়ে রান্না করে দুধ দিন। চুলার আঁচ একদম কমিয়ে নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। সবশেষে এবার ছোট ছোট পরিবেশন পাত্রে মিষ্টি বুন্দিয়া ও রাবড়ি লেয়ারে লেয়ারে সাজিয়ে ওপরো ইচ্ছেমতো বাদাম কুচি বা মাওয়া দিয়ে পরিবেশন করুন।

12.       ভাজা সেমাই

উপকরণ :
১. ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম লম্বা সেমাই (ভালোভাবে ভেঙে নেওয়া),
২. তেল ১/২ কাপ,
৩. পানি ১ কাপ,
৪. এলাচ ৮-১০ টা,
৫. চিনি স্বাদমতো,
৬. কিসমিস, কাজু বাদাম আর পেস্তাবাদাম পরিমানমত।

প্রণালি :
> প্রথমে তেল হালকা গরম করে তাতে ভেঙে রাখা সেমাই দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে। তারপর তাতে এলাচগুলো দিয়ে ১ মিনিটের মত অপেক্ষা করুন। করতে হবে যতক্ষণ না সুবাস বের হবে ততক্ষণ হালকা নাড়াচাড়া করুন। তারপর পানি ও একটু পর কিসমিস দিয়ে মৃদু তাপে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। এবার সেমাই বেশি শুকিয়ে আসলে প্রয়োজনে আবার একটু পানি দিন, এবার ঢাকনা দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করুন। এখন ঝরঝরে সেমাই নামিয়ে অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ডিশে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

13.     মালাই সেমাই

উপকরণ
১. দুধ দুই লিটার,
২. লাল সেমাই এক কাপ,
৩. চিনি আধা কাপ,
৪. কনডেন্সমিল্ক এক কাপ,
৫. এলাচ ও দারচিনি ৩-৪টি,
৬. ঘি এক চা চামচ,
৭. বাদাম কুচি ও কিসমিস পছন্দমতো।

প্রণালি :

> প্রথমে দুধ মৃদু আঁচে রেখে এলাচ আর দারচিনিসহ জ্বাল দিয়ে ঘন করে ফেলুন। এরপর চিনি দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। আরেকটি পাত্রে ঘি ঢালুন। এর মধ্যে সেমাই দিয়ে অল্প আঁচে লাল লাল করে ভেজে নিন। বেশি ভাজবেন না। এতে স্বাদ নষ্ট হবে।

> এখন তৈরি করা দুধের মালাইয়ের সঙ্গে সেমাই মিশিয়ে কিছুক্ষণ মৃদু আঁচে রাখুন। নামিয়ে ঠান্ডা করলে দেখবেন সেমাই ঘন হয়ে যাবে। এরপর বাদাম কুচি ও কিসমিস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

14.       থ্রি লেয়ার মুজ

উপকরণ :
১. ডিমের কুসুম ৬টা,
২. চিনি সিকি কাপ,
৩. দুধ ১ কাপ,
৪. ভ্যানিলা ১ চা-চামচ,
৫. ডার্ক চকলেট ১০০ গ্রাম,
৬. সাদা চকলেট ১০০ গ্রাম,
৭. মিল্ক চকলেট ১০০ গ্রাম,
৮. জেলোটিন ২ টেবিল-চামচ।

প্রণালি :

> ডিমের কুসুম, চিনি, দুধ নিয়ে একটা হাঁড়িতে গরম করে অনবরত নাড়তে হবে। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ভ্যানিলা মেশাতে হবে। এবার এই মিশ্রণ তিন ভাগে ভাগ করে নিন। প্রতি ভাগে আলাদা ডার্ক, সাদা ও মিল্ক চকলেট মিশিয়ে পরিবেশন জারে লেয়ারে লেয়ারে সাজাতে হবে। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

15.           পেপারমিন্ট ট্রাইফল

ধাপ ১
উপকরণ :
১. ওরিও কুকিজের গুঁড়া আধা কাপ,
২. গোলানো মাখন সিকি কাপ।

প্রণালি :

> সব একত্রে মাখিয়ে গ্লাস কিংবা পাত্রের প্রথম লেয়ারে রাখতে হবে।

ধাপ ২
উপকরণ :
১. ক্রিম চিজ ১ কাপ,
২. নরম মাখন সিকি কাপ,
৩. গুঁড়া চিনি সিকি কাপ,
৪. পেপারমিন্ট এসেন্স ১ টেবিল-চামচ।

প্রণালি :

> সব একসঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে বিট করে পাইপিং ব্যাগে ভরে ২য় লেয়ারে ডিজাইন করে সাজান। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

16.       নারিকেলের শাহি লাড্ডু

উপকরণ:
নারকেল কোরানো ২ কাপ,

ঘি ২ টেবিল চামচ,

কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ,

কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ (টেলে আধা ভাঙা),

কিশমিশ ২ টেবিল চামচ,

আখরোট ২ টেবিল চামচ (টেলে আধা ভাঙা),

মাওয়া আধা কাপ,

এলাচগুঁড়া আধা চা চামচ।

প্রণালী:

ফ্রাইপ্যানে ঘি গরম করে তাতে কুড়ানো নারকেল অল্প আঁচে ভেজে নিন।

তারপর চুলার আঁচ মাঝারি করে এতে চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে নাড়ুন।

মিশ্রণটি আঠালো হয়ে এলে আখরোট, কাজুবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে নাড়ুন।

এবারে নারকেলের সঙ্গে মাওয়া দিয়ে ভালো করে নাড়ুন।

একেবারে মাখা মাখা হয়ে এলে এলাচগুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।

কিছুটা ঠান্ডা হলে দুই হাতের তালুতে পানি মেখে নারকেল একটু একটু করে নিয়ে গোল করে লাড্ডু তৈরি করুন।

নারকেলের লাড্ডু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যাবে না, তবে বায়ুরোধী বক্সে তিন-চার দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রেখে খাওয়া যাবে।

17.       পেড়া সন্দেশ

উপকরন:
গুড়া দুধ ১.৫ কাপ

কনডেন্সড মিল্ক ১ টিন

বাটার ৮ চা চামচ

ছোট এলাচ ৪ টি

বাদাম, কিশমিস

প্রণালী:

ননস্টীক প্যানে বাটার গলিয়ে কনডেন্সড মিল্ক ও গুড়া দুধ ভালো করে মেশাতে হবে।

হালকা আচে ঘন ঘন নাড়তে হবে, যতক্ষন না ঘন পেস্ট এর আকার নিলে ছোট এলাচ এর গুড়ো দিতে হবে এবং ভালো করে মেশাতে হবে।

এরপর চুলার জ্বাল বন্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষন রেখে দিন।

ঠান্ডা হলে গোল গোল করে ছবির মতো করে সন্দেশ আকারে বানিয়ে কিশমিস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

18.       ফ্রুট কাস্টার্ড

উপকরণ:

-ডিম একটি

-দুধ ৪ কাপ

-কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ

-চিনি এক কাপ

-ভেনিলা এসেন্স এক চা চামচ

-আম কিউব করে কাটা আধা কাপ

-আপেল কিউব করে কাটা আধা কাপ

-কলা কিউব করে কাটা আধা কাপ

-কালো আঙুর ২ ভাগ করে কাটা আধা কাপ

-আনার আধা কাপ

প্রণালী:

চুলায় সসপেন দিন। এরপর সসপেনে দুধ দিন।

দুধ গরম হয়ে উঠলে চিনি দিন।

একটা ডিম ভালোমতো ফেটিয়ে দুধে দিয়ে নাড়ুন।

এবার কাপে ৪ ভাগের এক ভাগ পানি নিয়ে তাতে কাস্টার্ড পাউডার মিশিয়ে নিয়ে দুধে ঢেলে দিয়ে ২/৩ মিনিট নাড়ুন।চুলা থেকে নামান।

সব ফল আর ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ভালোভাবে মেশান।

ঠাণ্ডা হলে ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে তারপর পরিবেশন করুন।

19.       শাহি ফিরনি

উপকরণ:
পোলাওয়ের চাল ১ কাপ,

কিশমিশ ২ টেবিল-চামচ,

দুধ ২ লিটার,

পেস্তা বাদামের কুচি ২ টেবিল-চামচ,

কনডেন্সড মিল্ক ১টি,

মাওয়া গুঁড়া ৪ টেবিল-চামচ,

দারচিনি ৪ টুকরা,

চিনি আধা কাপ

এলাচ ২টি,

জাফরান আধা চা-চামচ।

কেওড়া ১ টেবিল-চামচ,

প্রণালি:

পোলাওয়ের চাল ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে আধা বাটা করে দুধ দিয়ে জ্বাল দিতে হবে।

চাল সেদ্ধ হলে চিনি, কনডেন্সড মিল্ক, দারচিনি, এলাচ দিতে হবে।

কিছুক্ষণ পর কিছুটা কিশমিশ, পেস্তা বাদামের কুচি দিতে হবে।

ঘন হয়ে গেলে কেওড়া জাফরানের সঙ্গে মিলিয়ে ফিরনিতে দিয়ে নামাতে হবে।

পরিবেশন পাত্রে ঢেলে মাওয়া, কিশমিশ, পেস্তা বাদামের কুচি দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা করে শাহি ফিরনি পরিবেশন করতে হবে।

20.       মেক্সিকান ডেজার্ট চকলেট ‘পট দা ক্রিম’

উপকরণঃ

চকলেট – ৬০ গ্রাম,

হেভি ক্রিম – ৯০ গ্রাম,

দুধ– ৫০ গ্রাম,

ডিমের কুসুম – ২ টি,

চিনি – ১৫ গ্রাম বা আপনি যেমনটা মিষ্টি পছন্দ করেন।

প্রণালি:

প্রথমে ওভেনে অথবা ফুটন্ত পানির উপরে বাটি রেখে যেকোনো উপায়ে চকলেট গলিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন।

এরপর একটি প্যানে দুধ ও ক্রিম একসাথে মিশিয়ে ভালো করে জ্বাল দিয়ে নিন। এবং চকলেটের উপরে ঢেলে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ফেলুন।

এবার আরেকটি বাটিতে ডিমের কুসুমের সাথে চিনি মিশিয়ে ফেলুন।

এরপর এই মিশ্রণে ধীরে ধীরে দুধ ও চকলেটের মিশ্রণ দিয়ে নেড়ে মেশাতে থাকুন ভালো করে। এরপর এই মিশ্রণটি ছেঁকে ছোটো ছোটো বাটি বা মোল্ডে ঢেলে দিন।

একটি বেকিং ট্রে অর্ধেকটা পানি পূর্ণ করুন এবং এতে মোল্ডগুলো রেখে ২৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে বেক করে নিন ৩০ মিনিট।

যদি ওভেনে না করতে চান তাহলে একটি বড় সসপ্যান ধরণের পাত্র চুলায়। এর ঠিক মাঝে একটি পাতিল রাখার স্ট্যান্ড বসিয়ে দিন। এতে দিন ১/৪ অংশ পানি।

একটি বাটি রেখে তার উপরে মিশ্রণপূর্ণ মোল্ড দিয়ে স্ট্যান্ডের উপর বসিয়ে ঢেকে দিন। সসপ্যান ধরণের পাত্রটিও ভালো করে ঢেকে উপরে ভারি কিছু দিয়ে চাপা দিন। এখন আগুন জ্বালিয়ে পানি জ্বাল করতে থাকুন। ২০-২৫ মিনিটেই হয়ে যাবে।

এরপর নামিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ‘চকলেট পট দা ক্রিম’।

21.       সাবুদানার ডেজার্ট

উপকরণ :

দুধ- ১ লিটার (২ লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে ঘন করে ১ লিটার করে নিতে হবে)

সাবুদানা- ১/৪ কাপ

চিনি- আধা কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম বেশি করা যেতে পারে)

কিসমিস- ইচ্ছা অনুযায়ী

দারুচিনি- ২/৩ টুকরো

এলাচ- ২/৩ টি

কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদাম কুচি- ইচ্ছা অনুযায়ী

মৌসুমি ফল- ইচ্ছা অনুযায়ী

প্রণালী :

২ লিটার দুধের মাঝে এলাচ, দারুচিনি দিয়ে দিন। এবার মৃদু আঁচে জ্বাল দিন। জ্বাল দিয়ে দুধের পরিমাণ অর্ধেকে করে নিতে হবে। দুধে ঘন সর পড়বে, সেই সর চামচ দিয়ে নেড়ে ভালো করে দুধের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

তারপর চিনি মিশিয়ে দিন। কিসমিস দিতে চাইলে সেটাও এই সময়ে যোগ করুন, তাতে কিসমিসগুলো দুধ শুষে নিয়ে ফুলে উঠবে। (তবে বেশি আগে কিশমিশ দিলে দুধে টকভাব চলে যেতে পারে) এবার সাবুদানাগুলো দিয়ে নাড়তে থাকুন।

নাহলে দানাগুলো একসাথে লেগে যাবে পাত্রের তলায়। নাড়তে নাড়তে দেখবেন সাবুদানাগুলো ক্রমশ আকারে বড় হবে ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। মিনিট দশেক পর নামিয়ে নিন এবং পছন্দ মতো পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে জমতে দিন।

ওপরে বাদাম বা মৌসুমি ফল দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু সাবুদানার ডেজার্ট।

22.           ট্রিপল লেয়ার চকলেট মুস

উপকরণ :

ডার্ক চকলেট(গ্রেট করে নেওয়া)- ২০০ গ্রাম

মিল্ক চকলেট(গ্রেট করে নেওয়া)-২০০ গ্রাম

হোয়াইট চকলেট(গ্রেট করে নেওয়া)-২০০ গ্রাম

চিনি(ব্লেন্ড করে নেওয়া)- ১ টেবিল চামচ

জেলাটিন(পানিতে দ্রবীভূত) – দেড় চা চামচ

ক্রিম(বিট করে নেওয়া)-২ কাপ

প্রণালি :

তিন ধরনের চকলেট তিনটি আলাদা বাটিতে নিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এক মিনিট করে গলিয়ে নিন।

গলানো চকলেটগুলো একটি বাটিতে মিশিয়ে নিয়ে পুনরায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এক মিনিট হিট দিন।

এখন বাটিটি ওভেন থেকে বের করে পাউডার চিনি যোগ করুন এবং নেড়ে মিশিয়ে নিন। এরপরে জেলাটিন যোগ করুন এবং মিক্স করুন। এবারে ক্রিম যোগ করে খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন।

এখন ছোট ছোট বাটিতে উঠিয়ে রেফ্রিজারেটরে ১ ঘণ্টার জন্য রেখে ঠাণ্ডা করে নিন এবং উপভোগ করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা মজাদার ট্রিপল চকলেট মুস।

ডেজার্টটিকে আরো আকর্ষণীয় করতে প্রতি বাটিতে গ্রেট করা চকলেট ছিটিয়ে দিতে পারেন অথবা ব্যবহার করতে পারেন ক্রিম, অথবা পছন্দ অনুযায়ী বাদাম।

23.       ওরিও কাস্টার্ড রেসিপি

উপকরণঃ

ওরিও কুকিজ- ১ প্যাকেট

পানি –পরিমাণ মতো

চিনি -৫০ গ্রাম

গুঁড়া দুধ -আধা কাপ

কর্নফ্লাওয়ার -২ টেবিল চামচ

মাখন -১ টেবিল চামচ

ভ্যানিলা -আধা চা চামচ

ডিম –১টা

প্রণালি:

ওরিও ভেঙে গুঁড়া করে রাখতে হবে। কাস্টার্ডের জন্য পানি ও চিনি জ্বাল দিতে হবে। আরেকটা বাটিতে গুঁড়া দুধ, কর্নফ্লাওয়ার, বাটার ডিম ও ভ্যানিলা অল্প পানি দিয়ে আগে মিশিয়ে রাখুন।

তারপর গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে হবে। একটু ঘন হলে নামিয়ে ফেলতে হবে।

গ্লাসে অল্প কাস্টার্ড ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। কিছুটা ঘন হয়ে এলে ফ্রিজ থেকে কাস্টার্ড বের করে তার উপর আবার ওরিও ঢেলে আবার ফ্রিজে রাখতে হবে।

একটু পর ফ্রিজ থেকে বের করে তারপর ওরিও গুঁড়া লেয়ার করে দিতে হবে। উপরে ওরিও গুঁড়া দিয়ে আপনার ইচ্ছা মতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

24.       ইতালিয়ান ডেজার্ট টিরামিশু

উপকরণ:

ডিমের কুসুম- ১০টি,

গুঁড়া চিনি- আধা কাপ,

হেভি ক্রিম- ২ কাপ,

লেডিস ফিঙ্গার কুকিজ- ১০টি, (কুকিজের বদলে চাইলে কেক ব্যবহার করতে পারেন)

কফি- ৩ চা চামচ,

পানি- ১ কাপ,

ক্যারামেল সস- সিকি কাপ,

কোকো পাউডার- ১ টেবিল চামচ।

যেকোনো ড্রাইফ্রুটস অথবা বাদাম (ইচ্ছা)

প্রণালি:

চুলায় কম আঁচে হাঁড়ি দিয়ে ডিমের কুসুম ও গুঁড়া চিনি একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

ডিমের কুসুমের রং পাল্টে ঘন হয়ে গেলে এর মধ্যে হেভি ক্রিম মেশান।

ডিমের সাদা অংশ অল্প চিনি দিয়ে ফোম করে রাখুন।

লেডিস ফিঙ্গার কুকিজ কফি ও পানি দিয়ে বানানো সিরাপ ও ক্যারামেল সসে ডুবিয়ে দিয়ে দিন। তারপর পরিবেশন পাত্রে রাখুন। কুকিজের উপর কুসুমের মিশ্রণ ঢালুন। কোকো পাউডার ছিটিয়ে দিন।

আবার কুকিজ কফি ও পানি দিয়ে বানানো সিরাপ ও ক্যারামেল সসে ডুবিয়ে দিয়ে দিন। তারপর পাত্রের লেয়ারের উপর রাখুন। এরপর আবার কোকো পাউডার ছিটিয়ে দিন।

এইভাবে লেয়ারে ৩ থেকে ৫ বার দিয়ে একেবারে ওপরে কোকো পাউডার ছিটিয়ে ফ্রিজে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। ইতালিয়ান ডেজার্ট টিরামিশু।

25.       ‘স্ট্রবেরি আইসক্রিম’

উপকরণ:

স্ট্রবেরি ১০টি৷

হেভি ক্রিম ২ কাপ।

কনডেন্সড মিল্ক ১ কাপ।

চিনি ২ টেবিল-চামচ স্বাদ মতো।

এক ফোঁটা লাল খাবার রং,(ইচ্ছা)

ভ্যানিলা এসেন্স অথবা স্ট্রবেরি এসেন্স ১ চা-চামচ।
প্রণালি:

আস্ত স্ট্রবেরি ও চিনি ব্লেন্ডার ব্লেন্ড করে স্ট্রবেরি পিউরি তৈরি করে নিতে হবে৷

ইলেক্ট্রিক কেক বিটার দিয়ে প্রথমে হেভি ক্রিম আট মিনিট বিট করুন। ক্রিমটা ফোমের মতো হয়ে আসলে কনডেন্সড মিল্ক, ভ্যানিলা এসেন্স এবং স্ট্রবেরি পিউরি দিয়ে দুই মিনিট বিট করে সব একসঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।

সব মিশে গেলে একটি এয়ার টাইট বাক্সে ভরে, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে জমে তৈরি হয়ে যাবে মজাদার স্ট্রবেরি আইসক্রিম৷

26.       ভিনদেশি ডেজার্ট, ট্রফেল

উপকরণ :

হুইপ ক্রিম ২ কাপ,

আপেল ১টি, আম ১টি,

চেরি, আঙুর, স্ট্রবেরি

বেদানা এক কাপ,

ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ,

কেক ১ কাপ,

জেলি সিকি কাপ।

প্রণালি:

সাধারণ কেক ছোট কিউব করে কেটে নিন। (অথবা আপনার পছন্দের সেপে কেটে নিতে পারেন)।

পরিবেশন পাত্রে সব ফল ছোট ছোট করে কেটে রাখুন।

তারপর জেলি দিন। এবার জেলির উপর পাত্রে কেক দিয়ে তার ওপর হুইপ ক্রিম দিন। হুইপ ক্রিমের ওপর আবার কাটা ফল, কেক ছিটিয়ে দিয়ে সাজিয়ে নিন। তারপর ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

27.       পাকা কলার কাস্টার্ড

উপকরণ:

ডিমের কুসুম ২টি

চিনি আধা কাপ

কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ

কাস্টার্ড সস

দুধ(হালকা গরম)আধা লিটার

পাকা সাগর কলা ২ টি।

প্রণালি:

ডিমের কুসুম ও চিনি এক সঙ্গে মেশাতে হবে।

এরপর সিকি কাপ দুধে কাস্টার্ড পাউডার গুলিয়ে নিয়ে ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন।

পরে দুধ হালকা আঁচে চুলায় বসিয়ে নাড়তে থাকুন।

কাস্টার্ড সস ফুটে ঘন হলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন।

পাকা কলা টুকরা করে ঠাণ্ডা কাস্টার্ড সস দিয়ে পরিবেশন করা যায়।

ইচ্ছে করলে কেক, রসগোল্লা ইত্যাদি মিলিয়ে পরিবেশন করা যায়।

28.       ফিলিপিনো ডেসার্ট ‘বুকো পানদান’

উপকরণ:

সাবু দানা ২কাপ

কনডেন্সড মিল্ক ১টা

ডানো ক্রিম ১টা

হাফ কেজি তরল দুধ (ঘন করে ১ কাপ করে নিতে হবে)

ডাব নারিকেল এর শাঁস (নারিকেল এর শাঁস খুব নরম বা খুব শক্ত হবে না ও চারকোনা করে কাটা)

জেলাটিন জমিয়ে ৪ কোনা করে কাটা।

আঙুর, আম, বা পছন্দের কোনো ফল-(চারকোনা করে কাটা দিতে পারেন-ইচ্ছা)

পছন্দ মতো ফুড কালার

প্রনালি:

সাবু দানা পানিতে সিদ্ধ করে নিন। খেয়াল রাখবেন যাতে গলে না যায়। এই সময় ফুড কালার মিশিয়ে নিন।

পানি ঝরিয়ে ১টা বাটিতে নিয়ে কনডেন্স মিল্ক, ক্রিম, ঘন দুধ, ফল, নারিকেলে শাঁস ও জেলাটিন সব একসাথে মিক্স করে নিন।

এবার গ্লাস বা বাটিতে করে সুন্দর করে সাজিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজ এ রেখে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন মজাদার ফিলিপিনো খাবার বুকো পানদান।

29.       ‘চকোলেট মুজ’

উপকরণ:

ডিমের কুসুম- ৪টা,

চিনি- ৪ টে. চামচ,

হেভী/হুইপড ক্রিম- ২ কাপ,

ডার্ক চকোলেট (গলানো)- ৮ আউন্স,

ভ্যানিলা এসেন্স- ১চা চামচ।

প্রনালি:

একটা সস প্যানে ডিমের কুসুম, ২ টে চামচ চিনি ও ৩/৪ (চার ভাগের তিন) কাপ হেভী ক্রিম ভালো করে মেশান। (এগ বিটার ব্যবহার করুন, সহজ হবে।)

এবার অল্প আঁচে ৩/৪ মিনিট রান্না করুন এবং অনবরত নাড়তে থাকুন। কিন্ত বলক আসার আগেই নামিয়ে ফেলুন। দেখবেন চামচের গায়ে মিশ্রন কোট করছে কিনা। হলেই নামিয়ে নিন এবং গলানো চকোলেট এবং ভ্যানিলা মিশিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন।

এরপর একটি পাতিলে পানি দিয়ে সেটা চুলায় দিন। গরম পানির ওপরে বাটিতে চকলেট দিয়ে গলান।

এবার আরেকটি বোলে ক্রিমের মিশনটি টি ঢেলে নিন ও সোয়া এক কাপ হেভী ক্রিম ও বাকি ২ চামচ চিনি মিশিয়ে এগ বিটার দিয়ে ততোক্ষন পর্যন্ত বিট করুন যতক্ষন না স্টিফ পিক দেখা যায়।

এখন ১/৩ (তিন ভাগের এক) হেভী ক্রিম আলতো করে স্প্যাটুলার সাহায্যে মিশিয়ে দিন মিশ্রণের সাথে ও সার্ভিং গ্লাসে ঢেলে অন্তত ৩০ মিনিট রেফ্রিজারেটরে রাখুন।

ঠাণ্ডা করে উপরে সামান্য ক্রিম ও চকোলেট কুচি দিয়ে নিজের পছন্দ মতো ডিজাইন করুন। তারপর সার্ভ করুন মজাদার ‘চকোলেট মুজ’।


0 Comments