জেনে নিন কোলাজেন এর গুরুত্ব ও তা বারানোর নিয়মাবলী


শরীরের মধ্যে কোলাজেন বৃদ্ধি সাধারণত প্রোটিন হিসাবে পাওয়া যায় মানুষের শরীরে বিভিন্ন সংবহণতন্ত্রের টিস্যুর সাথে সংযুক্ত থেকে শক্তি সরবরাহ করে থাকে যখন মানবদেহে যথেষ্ট পরিমান কোলাজেন থাকে তখন দেহকে ত্বকের, হাড়ে বা অস্থিতে বা চুলে শক্তি দিয়ে থাকে

কোলাজেন শরীরে সর্বাধিক প্রচলিত প্রোটিন এটি অন্যান্য জায়গাগুলির মধ্যে টেন্ডস, ফ্যাট এবং লিগামেন্টে উপস্থিত রয়েছে এটি আমাদের দেহের টুকরোগুলি একসাথে ফিট করতে সহায়তা করে এবং আমাদের হাড়ের কাঠামোর শক্তির পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোলাজেনের স্তরগুলি যখন স্বাস্থ্যকর থাকে তখন কোলাজেনযুক্ত কোষগুলি শক্তিশালী হয় এবং তারুণ্যের উপস্থিতি ধারণ করে

প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে কোলাজেন বৃদ্ধি ক্রয়া যায় সেই নিয়ে এখন আলচনা করা হবে টি উপায়ে কোলাজেন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করব প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে, কোলাজেন হ্রাসকে প্রতিহত করতে পারি এতে আপনার শরীর , ত্বক, চুল, অস্থি ইত্যাদি ভাল রাখতে সাহায্য করবে

কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার
শরীরের সুস্থতা রক্ষার্থে দেহে কোলাজেনের পরিমান বৃদ্ধি করা অতীবও প্রয়োজন
এই কোলাজেনের  হ্রাসকে প্রতিরোধ করতে প্রতিটি মানুষের কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার(Rich Collagen Foods) খাওয়া উচিত সাধারনভাবে একটা বিষয় লক্ষ করা যায় যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে   যে সকল খাবার ত্বক, চুল এবং অস্থি বা হাড়কে ভাল রাখতে কোলাজেন অসাধারন ভূমিকা পালন করে থাকে এই  পোস্টের জানতে সাহায্য করবে কোন খাবারে কোলাজেন বৃদ্ধি পায় বেশি

Vitamin-C সমৃদ্ধ খাবার
Vitamin-C সমৃদ্ধ খাবারে ভিটামিন-সি থাকে কিউইতে বেশি কোলাজেন বৃদ্ধি করা উপায় নিয়ে যে পোস্ট করা হয়েছে সেখানে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে ভিটামিন-সি এর পরিমান বাড়তে থাকলে কোলাজেন বৃদ্ধি পেয়ে থাকে যে সকল খাবারে বেশি পরিমান ভিটামিন-সি পাওয়া যায় তার মধ্যে লেবু, আমড়া, ফুলকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমানে Vitamin-C থাকে বেরি টক জাতীয় খাবারে বেশি পরিমান Vitamin-C পাওয়া যায় যা দেহে কোলাজেনের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে থাকে

মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে Vitamin-A পাওয়া যায় এই Vitamin-A দেহে কোলাজেন বৃদ্ধি করে থাকে মিষ্টি আলুর পাশাপাশি গাজর, আম জাতীয় ফল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি দেহে কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার(Rich Collagen Foods) তালিকায় অন্যতম
টমেটো
টমেটোর মধ্যে প্রধান উপাদান হিসাবে থাকে লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই লাইকোপিন কোলাজেনের ক্ষয় রোধ করতে থাকে এবং দেহে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় বায়ু দূষনের কারনে শরীরের ত্বকে যে ক্ষতি হয় তা রোধ করতে টমেটো দারুন ভুমিকা পালন করে থাকে তাই প্রতিদিন শরীরে কোলাজেন প্রিমান বাড়াতে ট্মেটো খাওয়া দরকার

লেবু
আমরা Vitamin- C চিন্তা করলেই কাঁচা টক জাতীয় খাবারের কথা আসে তার মধ্যে লেবু একটি প্রতিদিন আমরা কোন না কোন ভাবে লেবু গ্রহন করে থাকি লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড এই সাইট্রিক এসিড শরীরে কোলাজেনের পরিমান বাড়িয়ে থাকে লেবুর শরবত, খাবারের সাথে যেকোন উপায়ে আমরা লেবু গ্রহন করে থাকে যা দেহে ভিটামিন-সি বাড়িয়ে কোলাজেনের পরিমান বাড়িয়ে থাকে যা আমাদের ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে থাকে লেবু একটা অসাধারন কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার

কাঠবাদাম
কাঠবাদাম একটা শুকনো খাবার অনেক শিকনো খাবারের মধ্যে কাঠবাদামের গুনাবলি অনেক কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম এছাড়াও কাঠবাদামে যে সকল উপাদান রয়েছে তার মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, Vitamin B, Vitamin-E, জিংক, আয়রন ইত্যাদি উপাদান মানবদেহে ৫০ বছরের পর থেকে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে এই হ্রাস রোধ করতে প্রতিদিন ২০-৩০ টা কাঠবাদাম গ্রহন করা উচিত

সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাক-সবজিতে রয়েছে অনেক খনিজ লবন পুষ্টি গুনাগুন কোলাজেন বৃদ্ধিকারি খাবার এটি দেহে এই সকল উপাদানের পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে শরীরে সুস্থতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানুষের প্রতিদিন নিদিষ্ট পরিমান শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন কেননা এটা কোলাজেন বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহকে সুষ্টু, স্বাবলীল বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে অসাধারন ভুমিকা পালন করে থাকে তাই লাল, বেগুনী শাকসবজির পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি দেহে কোলাজেনের পরিমান বৃদ্ধি করে থাকে সবুজ শাকসবজি কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার যা আমাদের প্রতিদিন খাওয়া উচিত

যেমন প্রতিদিনের খাবারের কোলাজেন খাবার খাওয়া বাধ্যতামূলক তেমনই বিশেষ কিছু কাজ করাও প্রয়োজন।

কোলাজেন বৃদ্ধি করার উপায়:


) Aloe Vera:
Aloe Vera জেল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত নিরাময়ে এবং প্রশান্ত করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এটি কাটা এবং পোড়াগুলির চিকিৎসায় জন্য ব্যবহার করা হয় কোলাজেন সরাসরি খাদ্য থেকে গ্রহন করা হয় অথবা শরীরের বাইরে বা ত্বকে প্রয়োগ করে কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করা হয় এই Aloe Vera জেলের মাধ্যমে  এই কোষ-বৃদ্ধি উদ্দীপক সম্পত্তি আপনার ত্বকে কোলাজেন উত্পাদন বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে অ্যালো খাঁটি আকারে সরাসরি ত্বকে বা বাজারে থাকা এমন অনেক পণ্য আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে অনেক গবেষনা এবং পরীক্ষা থেকে জানা গেছে, অ্যালোভেরা, ত্বকের উন্নয়নে অসাধাওনে ভূমিকা পালন করে থাকে এই লিংকে বলা হয়েছে, কোলাজেনের কারনে মানবদেহের ত্বকে নানা ধরনের উন্নত সাধিত হয় তাই এই অ্যালোভেরা, শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি করে ত্বককে রাখে স্বাভাবিক এবং প্রানবন্ত

2) জিনসেংগ:

অনেকে শধু Ginseng সেক্সের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে কিন্তু এই হারবার্ল সেক্সের শক্তি বৃদ্ধি করে না শুধু এটা দেহের মধ্যে নানা ধরনের শক্তি প্রধান করে থাকে Ginseng দেখতে অনেকটা মানুষের মত তবে জিংসেং বাংলাদেশে খুব কম পরিমান উৎপাদ হচ্ছে Ginseng দেহে কোলাজেনের পরিমান বৃদ্ধি করে থাকে তবে দেহের সকল অংশের জন্য Ginseng ব্যবহার করা হয়ে থাকে অনেকের ভুল ধারনা Ginseng সেবন করলে খুব দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে Ginseng বিভিন্ন ধরনের পন্যে পাওয়া যায় ভেষজ দ্রবে, বিভিন্ন ট্যাবলেটে ইত্যাদি আকারে বাংলাদেশ পাওয়া যায় তবে Gingseng সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্টারের পরামর্শ নিবেন তবে Ginseng দেহে কোলাজেনের পরিমান বৃদ্ধি করে থাকে এবং দেহকে শক্তিশালী, সুগঠিত করতে সহায়তা করে

3) ফেসিয়াল ম্যসেসঃ

ফেসিলাম ম্যাসেস কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে এটা ত্বকের ক্ষেত্রে অসাধারন কাজ করে থাকে এই থেরাপির সাহায্যে দেহে রক্ত সঞ্চলন বাড়াতে ভুমিকা রাখে Facial Massage করে তারুন্যেকে ধরা রাখা এবং ত্বকের মলিনতা ফিরে নিয়ে আসতে সাহায্য করে কোলাজেন বৃদ্ধির মাধ্যমে

4) কোলাজেন ক্রিম:
বাজারে বিভিন্ন প্রকারের কোলাজেন ক্রিম বিক্রি করা হয় কোলাজেন শুধু দেহের ভিতরে নয়, দেহের বাইরে ব্যবহার করা হয় ত্বকের যত্নে এই ক্রিম দেহের উপরের অংশে মানে ত্বকে ব্যবহার করা হয় এমন একটা ক্রিম নির্বাচন করতে হবে যাতে অ্যামিনো এসিড রয়েছে যা আমাদের ত্বকে কোলাজেন বাড়াতে ভুমিকা পালন করে থাকে

5) ধূমপান পরিহার করাঃ
ধূমপানের ফলে দেহে কোলাজেনের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে থাকে তখন শরীরে নানা প্রকারের কোলাজেনের ঘাটতি দেখা যায় ধূমপান করলে কোলাজেন শরীরে উৎপাদন হতে পারে না ফলে ত্বক, চুল, অস্থি দুর্বল হয়ে পড়ে দেহের কোলাজের বৃদ্ধি ঠিক রাখতে ধূমপান পরিহার করা বাধ্যতামূলক
কোলাজেন বৃদ্ধির ফলে আমাদের দেহে নানা ধরনের প্রোটিনের ভারসাম্য রক্ষা পায় তাই শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি করা জরুরী এবং যে সকল কারনে কোলাজেন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে সেগুলো থেকে দূরে থাকা
ধারণত আমরা হারবাল ফেসিয়াল, গোল্ড ফেসিয়াল এসবের সাথে পরিচিত ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকের রকমভেদে ফেসিয়াল আরো আছে সেগুলোর সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত না আর তাছাড়া সব সময় পার্লার- যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই ঘরে কারো সাহায্য নিয়ে বা নিজেই করতে পারেন আপনার ত্বকের যত্ন সব ফেসিয়াল-এর মূল লক্ষ্য ত্বকের মরা কোষ, মলিনতা, রুক্ষতা দূর করে ত্বককে স্বাস্থ্যকর বানিয়ে তোলা অনেকের অনন্যা হয়ে ওঠার বাসনাটা আসুন আজ কোলাজেন আর পিল ফেসিয়াল-এর মাধ্যমে পূরণ করা যাক!
আপনাদের জন্য দেওয়া হল ত্বকের রকমভেদে ফেসিয়াল যেভাবে করবেন:
) কোলাজেন ফেসিয়াল
কোলাজেন ফেসিয়াল- কোলাজেন প্রোটিন ব্যবহার করা হয় ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কোলাজেন প্রোটিন প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয়, যা আমাদের ত্বকের গঠন, ইলাস্টিসিটি(elasticity), আর দৃঢ়তা বজায় রাখে বয়সের সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন কোলাজেন ভাঙতে শুরু করে আর ত্বকে বলিরেখা আর বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করে কোলাজেন ফেসিয়াল-এর মাধ্যমে এই বয়সের ছাপ লুকিয়ে ত্বকে তারুণ্যের উজ্জ্বলতা দেখা দেয়
কোলাজেন ফেসিয়ালের অন্তর্ভুক্ত ধাপসমূহ
) ত্বক পরিষ্কার করা
) মৃত কোষ দূরীকরণের জন্য কোলাজেন ফেসিয়াল এক্সফোলিয়েশন(exfoliation) এবং সেই সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার
) ফেইস মাস্ক দেয়া যেটিতে ভিটামিন, এসিড, মিনারেল আছে এই উপাদানগুলো ত্বকে ইলাস্টিন(elastin) এবং কোলাজেন উৎপন্নে সাহায্য করে, আর ত্বকে বয়ে আনে তারুণ্যময় দীপ্তি
ত্বকের রকমভেদে ফেইস ক্রিম
) কোলাজেন সমৃদ্ধ ফেইস ক্রিম দিয়ে ম্যাসাজ
কোলাজেন ফেসিয়াল-এর সুবিধাসমূহ
. শরীরের বাইরে থেকে প্রেরিত প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়া থেকে আপনার ত্বককে সুরক্ষিত করে
. আপনার ত্বককে করে তোলে মসৃন কোমল
কীভাবে বাসায় করবেন কোলাজেন ফেসিয়াল?
সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরে বসেই সেরে নিন আপনার কোলাজেন ফেসিয়াল
ত্বকের রকমভেদে বেস্ন দুধের মাস্ক
) মুখের ত্বক এবং গলা ভালো কোন ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন আপনি চাইলে বেসনের সাথে দুধ মিশিয়েও ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন
ত্বকের রকমভেদে অ্যাভোকাডো কিউই
) এক চামচ অ্যাভোকাডো পাল্প-এর সাথে কিউই ভালোভাবে স্ম্যাশ(smash) করে নিন তারপর মুখে আর গলায় লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ৩০ মিনিট পর্যন্ত
) একটি পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে মাস্ক তুলে ফেলুন তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন
) ভালো কোয়ালিটি-এর কোন অ্যান্টি-এজিং(anti-aging) ক্রিম দিয়ে মুখ ম্যাসাজ করুন, এটি আপনার ত্বকে কোলাজেন উৎপন্নে সাহায্য করবে
ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য মাসে একবার এই ফেসিয়াল করুন
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
উপরোক্ত ফলগুলো যদি আপনার হাতের কাছে না থাকে তাহলে কোলাজেন সমৃদ্ধ ফল যেমন লেবু, শসা, বিট, টমেটো দিয়েও কোলাজেন ফেসিয়াল-এর কাজ সেরে নিতে পারেন তবে কোলাজেন ফেসিয়াল কোন এক্সপার্ট-কে দিয়ে করানো ভালো কারণ আপনাকে তারা আগে টেস্ট করবে যে যে উপাদান ব্যবহার করা হবে তাতে আপনার কোন ধরনের অ্যালার্জি আছে কিনা এমনকি তারা এটাও নির্ধারণ করে দিবে এই ফেসিয়াল করা আপনার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা

0 Comments