স্বাস্থ্যই
সকল সুখের মূল।
সেই স্বাস্থ্য যদি ভালো না
থাকে তাহলে আপনি কি
সুখে থাকবেন? আপনার শরীর যদি
ভালো না থাকে তাহলে
কোন কিছুতেই ভালো থাকা যায়
না। তাই
শরীর সবসময় সুস্থ রাখার
জন্য আমাদের অনেক নিয়ম
মেনে চলতে হয়।
যা স্বাস্থ্য রক্ষায় খুব প্রয়োজনীয়।
আপনি কি শুধু বেঁচে থাকার
জন্য যা ইচ্ছে তাই
খেয়ে থাকেন? নাকি সুস্থ
এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থেকে জীবনকে
উপভোগ করতে চান আপনি?
জেনে নিন স্বাস্থ্যকর ও
পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবারের একটি তালিকা
চলুন জেনে নেই সুস্থ
থাকার কিছু নিয়মাবলীঃ
১। ভোরে
ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস
গড়ে তুলুন। প্রতিদিন
খুব সকালে ঘুম থেকে
ওঠে ৩০ – ৪০ মিনিট
হাঁটুন। মনে
রাখবেন হাটার চাইতে আর
কোনো ভাল ব্যয়াম নেই। এতে
মন এবং শরীর সতেজ
থাকবে।
২। নিয়ম
করে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে
তুলুন, কম অথবা বেশি
খাওয়া দুটাই স্বাস্থ্যের জন্য
ক্ষতিকর। খাবারের
তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত শষ্যদানা রাখুন৷ বিশেষ করে সকালের নাস্তায় সিরিয়ালের
সাথে বিভিন্ন শষ্যদানা, গম, ভুট্টা, ফল এবং দই থাকতে পারে৷ এতে ঝটপট পেট ভরে এবং পেট
পরিষ্কারও থাকে, অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে৷ তবে ফল মানেই আপেল, আঙুর নয়৷ বরং যখন
যে ফল পাওয়া যায়, মানে মৌসুমি ফল খান৷ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷ চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে আনুন। ভাজা-পোড়া ও ফাস্টফুড
জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ
করুন।
৩। প্রতিদিন
কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস
পানি পান করুন।
দিনের শুরুতে লেবু ও
মধু দিয়ে হালকা গরম
পানি পান করুন।
খাবারের সময় বেশি পানি
পান না করে খাবার
শেষে অন্তত এক থেকে
দুই ঘণ্টা পর পানি
পান করবেন।
৪। লালমাংস
(গরু, মহিষ, ছাগলের মাংস),
মিষ্টি, ঘি, ডালডা জাতীয়
খাবার কম খান।
৫। ফলমূল
ও শাকসবজি বেশি করে খাদ্য
তালিকায় রাখুন। একবারে
বেশি করে খাওয়ার চেয়ে
অল্প অল্প করে বার
বার খেতে পারেন।
প্রত্যেক বারের খাবারে দুই
রকমের সবজি এবং একটি
ফল অর্ন্তভুক্ত করার চেষ্টা করবেন।
৬। প্রত্যেকবারের
খাবারের সময় কাঁচা সবজির
সালাদ খাবেন। শুধুমাত্র
টাটকা শাক সব্জি খাবেন। তৎক্ষনাত
রান্না করা খাবার খাবেন,
কখনই বাসি খাবার খাবেন
না৷প্রতিদিন খাবারের মেনুতে সবজি
ও মাছ রাখুন।
৭। খাবার
থেকে সমস্ত ভাজা ও
তেল জাতীয় খাবার ত্যাগ
করুন। এছাড়াও
খাবারের তালিকা থেকে উচ্চ
চিনিযুক্ত খাবার যেমন- হালকা
পানীয়, আইসক্রিম, ক্যান্ডি এবং কুকিজ বাদ
দিন। সলিড ফ্যাট খাবার, যেমন- ফাস্টফুড, ঘি, মাখন, চিজ ইত্যাদি খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৮। আপনার
শরিরের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যয়াম করুন।
যাদের মেদ বা ভুড়ি
জমেছে তারা নিয়মিত ও
সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন।
হাঁটা ও অন্যান্য ব্যয়াম
এর পাশাপাশি সম্ভব হলে প্রতিদিন
কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যয়াম
করুন।
৯। অতিমাত্রায়
চা ও কফির অভ্যাস
ত্যাগ করুন তার পরিবর্তে
টাটকা ফলের রস খান। শরীরের
নিয়মিত যত্ন নিন।
শরীরের সৌন্দর্য বজায় রাখুন।
১০। রাতে
তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত।
খাওয়ার কম পক্ষে দুই
থেকে তিন ঘণ্টা পর
শোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১১। প্রতিদিন
রাতে ৭ থেকে ৮
ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস গড়ুন। সুস্বাস্থ্য
ও ফিগারের জন্য নিয়মিত ও
পরিমিত ঘুম প্রয়োজন।
দিনে শোওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গড়ে
তুলুন। রাতে
শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক
পরুন।
১2। নিয়মিত
নিজের ওজন, ব্লাড প্রেশার,
শরীরে গ্লুকেজ এর পরিমাণ চেক
করুন। মাসে
অন্তত একবার রেগুলার চেকআপ
এর জন্য ডাক্তার এর
কাছে যান।
১৩। যখন আপনি খেতে বসবেন কখনোই একবারে বেশি খাবেন না। অল্প করে খান, তবে একটু পর পর। প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
১৪। অফিসে সবসময় বাসা থেকে লাঞ্চ নিয়ে যান। তাহলে বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বেঁচে যাবেন।
১৫। সবসময় রান্না করার সময় খাবারে লবণের ব্যবহার কম করুন।
১৬। প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাইমে ঘুমাতে যান এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠুন।
১৭। কাজের মঝে অবশ্যই টি ব্রেক নিন। কারণ একটানা কাজ করতে গেলে কিছুটা হলেও শরীরে চাপ পড়ে।
১৮। যে কোন জায়গায় লিফট ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। চেষ্টা করুন সিঁড়ি বেয়ে উঠতে।
0 Comments