বয়স বাড়া বা
নানা কারণে ত্বক এ
ভাঁজ পড়তে পারে।
আর ভাঁজ পড়ার কারণে
ত্বক ঝুলে যায় তখন
ভাঁজটা চোখে পড়ে।
তারমধ্যে কপাল কুঁচকানো, বয়সের
কারণে, সূর্যের তাপ, ধূমপান, কম
পানি পান করা অন্যতম। এছাড়া
ডায়াবেটিস, ইনফেকশাস ডিজিজসহ ওজন কমলেও ত্বকে
ভাঁজ পড়ে বা কুঁচকে
যায়। বিশেষ
করে কপালে এই ভাঁজগুলো
বেশি পড়ে। ত্বকের
এই ভাঁজ প্রতিরোধ করতে
প্রচুর পরিমাণে পানি পান, অকারণে
কপাল কুঁচকানো বন্ধ করতে হবে। সাথে
ধূমপান ছাড়তে হবে।
এছাড়া ত্বকের কিছু যত্ন
নিলে ত্বক আবার আস্তে
আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
ত্বক টানটান রাখতে প্রচুর পরিমানে ফলমূল
, শাকসবজি খাবার কথা ভুলবেন না। আর অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন।
1.
আমরা
কিছু এমন খাবার নিয়ে আলোচনা করেছি:
·
প্রতিদিন
স্বাস্থ্য সম্মত, প্রষ্টিকর খাবার
খান এবং পানি পান
করুন। সঠিক
পুষ্টি হলো তরুণ দর্শন
হওয়ার এবং দীর্ঘ ও
সুস্থ জীবন যাপনের শ্রেষ্ঠ
উপায়।
·
ত্বক
উজ্জ্বল ও ফ্রেশ রাখতে
নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় খাবার
খাওয়া উচিত। এক
গøাস অরেঞ্জ জুস
বা মুসাম্বি জুসে ১ চামচ
লেবুর রস ও আধা
চামচ মধু মিশিয়ে খালি
পেটে পান করুন।
নিশ্চিত করে বলতে পারি
এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে,
শরীর তরতাজা হয়ে উঠবে।
·
ত্বক
সজীব রাখার জন্য ভিটামিন
সি যুক্ত খাবারও অনেক
কাজে দেয়। প্রতিদিনের
খাদ্য তালিকায় গাজর, তরমুজ, পাকা
পেঁপে রাখতে পারেন।
খাবারের তালিকায় রঙিন ফলমূলের তালিকা
বড় করুন। অবশ্যই
আপনার ত্বক সজীব ও
সতেজ হয়ে উঠবে।
·
ত্বক
সুস্থ ও সজীব রাখতে
নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমও জরুরি। অনেক
গৃহবধূ আছেন বাসা থেকে
বেরই হন না।
হাঁটাহাঁটি করার সুযোগও পান
না। অথবা
সুযোগ থাকা সত্তে¡ও
হাঁটাহাঁটি করেন না।
কিন্তু মনে রাখবেন ত্বকের
সুস্থতা নিয়মিত জগিং ও
হাঁটাহাঁটির ওপরও নির্ভর করে। ত্বক
ভালো রাখার অন্যতম শর্ত
হচ্ছে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে
বিশুদ্ধ পানি পান করা। সারাদিনে
কমপক্ষে ৮/১০ গøাস পানি পান
করবেন। এর
ফলে শুধু ত্বক নয়
আপনার শরীরও সুস্থ থাকবে।
·
সেই
আদিকাল থেকেই গায়ের রং
বিশেষ করে ত্বকের যতœ
নিয়ে নারীদের অনেক চিন্তা।
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে,
শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘ সময় ধরে
রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায়
নারীর ত্বক উজ্জ্বলতা হারায়। প্রাকৃতিক
উপায়েও ঘরোয়াভাবে আপনার ত্বকের যতœ
নিতে পারেন। দুধ
আর কাঁচা হলুদ আপনাকে
এ ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। কীভাবে?
আসুন জেনে নেই ত্বকের
যতেœ দুধ আর কাঁচা
হলুদের জাদুমন্ত্র!
·
প্রতিদিন
এক গøাস গরম
দুধে আধা চা চামচ
কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে
পান করুন। হলুদে
রুচি না এলে মধু
মিশিয়ে নিন। নিয়মিত
হলুদ মেশানো দুধ পান
করলে আপনার ত্বক হয়ে
উঠবে ভেতর থেকে ফর্সা।
·
দুধে
কাঁচা হলুদ বাটা না
মিশিয়ে আরও একটি পদ্ধতি
অনুসরণ করতে পারেন।
দেড় ইঞ্চি সাইজের এক
টুকরো হলুদ নিন।
তারপর টুকরো টুকরো করে
কেটে এক গøাস
দুধে দিয়ে দুধ ভালো
করে ফুটিয়ে নিন।
দুধ এক সময় গাঢ়
হলুদ রং ধারণ করবে। এবার
পান করুন। একদিনে
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই
হবে না। কাজেই
নিয়মিত এই অভ্যাস করুন। তবে
যাই করেন না কেন
প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে
বিশুদ্ধ পানি পান করবেন। ত্বকের
যতেœ পানির বিকল্প আর
কিছু নাই।
সতেজ-তারুণ্যদীপ্ত চেহারা
পাওয়ার আকাঙক্ষা কার না আছে?
কিন্তু সবার এই আকাঙক্ষা
কি পূরণ হয়? সময়ের
স্রোতে ব্যস্ততার ছুটন্ত ঘোড়ায় চেহারার
দিকে খেয়াল রাখার ফুসরত
ক’জনার হয়ে থাকে। কিন্তু
কিছু উপায় অবলম্বন করলে
সহজেই নিজেকে সতেজ ও
তারুণ্যদীপ্ত রাখা যায়।
2. মুখ মন্ডল অন্তত
দিনে দুবার ধুয়ে নিন
আলেতাভাবে একটি নরম রুমাল
দিয়ে। সপ্তাহে
একদিন মুখ ঘষে নিন। মৃত
ত্বক কোষ ঝরে যাবে,
ময়েশ্চারাইজ করুন নিয়মিত।
এর ছাড়াও
কিছু ফেইসপ্যাক অথবা ঘোরয়া কিছু পদ্বতি অবলম্বন করুন।দেখুন।
·
পাকা
পেঁপে ত্বককে টানটান করেতে
বেশ উপকারী।পাকা
পেঁপে চটকে মুখে মাখুন। কিছু
সময় রেখে কুসুম গরম
পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পাকা
পেঁপে ত্বক ফরসাও করে।
·
অলিভ
ওয়েল ত্বকের জন্য বেশ
উপকারি। ত্বক
টানটান করতে অলিভ অয়েল
বেশ কার্যকর। তাই
সবাই এটি মাখতে পারেন।গোসলের
আগে ত্বকে ভালো করে
অলিভ ওয়েল মেসেজ করে
কিছুক্ষণ পর গোসল করে
নিন দেখুন ত্বকটা কেমন
মোলায়েম আর টান টান
লাগছে।
·
ডিমের
সাদা অংশ ত্বককে টানটান
করতে বেশ কার্যকর।
ডিমে থাকা পুষ্টিগুণ ত্বকের
অতিরিক্ত তেল বের করে
দেয়। ডিমের
সাদা অংশটি নিয়ে মুখে
মাখুন। কিছু
সময় রেখে ধুয়ে ফেলুন।
·
এলোভেরার
জেল প্রতিদিন মুখে মাখলে চামড়া
টান টান থাকবে।
রাতে ঘুমানোর সময় এলোভেরা জেল
মুখে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন
সকালে উঠে মুখ ধুয়ে
ফেলুন। দেখবেন
মুখের ত্বক বেশ টান
টান করবে ও কালচে
দাগ উঠে যাবে।
যেখানে ভাঁজ বেশি পড়েছে
সেখানে পুরু করে লাগান।
·
টক
দইয়ের মধ্যে স্ট্রবেরি মিশিয়ে
পেস্ট তৈরি করুন তারপর
সেটা মুখে ভালো করে
মেসেজ করুন। কিছুক্ষণ
রেখে সুতি কাপড় গরম
পানিতে ভিজিয়ে আস্তে করে
মুছে ফেলুন। এটি
ব্যবহারে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন
বাড়বে, এবং এতে ত্বক
উজ্জ্বল ও টানটান হবে। নিয়মিত
ব্যবহারে বেশ ভালো ফল
পাবেন।
·
ত্বকের
আর্দ্রতা ধরে রাখতে আভোকাডো
ভালো কাজ করে।
আভোকাডোর সাথে টকদই মিশিয়ে
মুখে মাখুন। কিছু
সময় রেখে ভালো করে
ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন
ব্যবহার করে দেখুন পরিবর্তন
নিজেই বুঝতে পারবেন।
·
আমন্ড
অয়েলে আছে প্রচুর পরিমানে
ভিটামিন ‘ই’ যা ত্বককে
আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। ত্বক
শুষ্ক হলে ফেটে যায়
তখন ত্বক ফেটে ঝুলে
পড়ে। ঝুলে
পড়া চামড়া টানটান করতে
আমন্ড ওয়েল বেশ ভালো
কাজ করে। মুখে
আমন্ড অয়েল ম্যাসাজ করে
কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন
ব্যবহার করে দেখুন ত্বক
বেশ টানটান ও উজ্জ্বল
হবে।
3.
প্রতি
সপ্তায় একবার বাষ্পস্নান করুন। বাষ্পস্নান
সপ্তাহে একবার করলে ত্বকে
রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং
মুখে সব স্বাস্থ্যকর পুষ্টি
উপকরণ পৌছে যায়।
দেখতে ভালো লাগে, চেহারায়
তরুণ দর্শনভাব আসে। বাষ্পস্নানে
ত্বক হয় কোমল, সুকোমল
এবং তত্ক্ষনাত্ স্বাস্থ্যকর দীপ্তি আসে চেহারায়।
4. ব্যবহার করুন ভালো মানের সানস্ক্রিন। এসপিএফ ৩০+, ত্বককে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষার জন্য।
5. দেহ গঠন, আকৃতি ও পেশির টোন উন্নত করার জন্য ব্যায়াম করুন নিয়মিতভাবে। এরোবিক হলো হূদযন্ত্রের ব্যায়াম এবং এনারোবিল হলো শক্তি নির্মাণ ব্যায়াম, যাতে সুঠামদেহ, ক্ষীণ ও সুখ অনুভব হয় দীর্ঘকাল।
6.
নেতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গীর বদলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী
গ্রহণ করতে শিখুন।
যে ভাবে ভাবেন, তাহাই
চেহারায় প্রতিফলিত হয়। ভ্রুকোঁচকালে
ত্বকে ভাজ পড়তে পারে
দ্রুত সময়ের মধ্যে।
হাসলে তত ভাজ পড়ে
না। তাই
ভ্রুকোচকানো চেহারা মোটেই দৃষ্টি
সুখকর নয়।
7.
কিছু
নতুন, নতুন কিছু শিখুন। জীবন
পরিচ্ছর্ন হলে দেখাবে ভালো,
চেহারায় আসবে উত্তম ভাব।।
8.
কখনই
ধূমপানে অভ্যস্ত হবেন না।
অক্সিজেন হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ
বন্ধু। ধূমপান
করা ঠিক না, কারণ
ধূমপান ছেড়ে দেওয়া অনেক
সময় কঠিন হয়।
অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপানে
কোটি কোটি ফ্রিরেডিকেল অবমুক্ত
হয়, যা আমাদের শরীর
ও ত্বকের জন্য ভালো
নয়। ফি
রেডিক্যাল দেহকোষ যে কোন
পর্যায়ে থাক, এদের বিনাশ
করেই। ত্বকের
কোষগুলোকে সংকুচিত করে, চেহারাকে ফ্যাকাসে
করে ফেলে।
9.
অনেককে
বুড়ো দেখায় তাদের কেশ
বিন্যাসের কারণে। নিজেকে
তরুণ দর্শন করে তুলতে
হলে ট্রেন্ডি হতে পারে।
চলতি হাওয়ার পন্থি হতে
হবে। দীর্ঘ
দিন যে কেশবিন্যাস করে
এসেছেন একে বদলাতে হবে।
10.
মেকআপ
হতে হবে হালকা।
হালকা ময়েশ্চারাইজিং, সজল ত্বক উজ্জ্বল
করা প্রসাধনী ব্যবহার করুন। এটির
উপর হালকা পাউডার, চিবুকে
পিংক ব্রাশ করে নিতে
পারেন।
11.
আইটোন
হবে স্বাভাবিক এবং নরম-কোমল।
12.
এমন
লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে যাতে
দাঁতের সারি দেখায়।
শুভ্রসাদাব্ সাদা দাতের সারি
থাকলে তরুণ দেখায়।
শুভ্রদাতের সারি পেতে হলে
নিয়মিত দাঁত মাজুন, পরিষ্কার
রাখুন, মাঝে মাঝে ডেনটিস্টের
কাছে যান।
13.
প্রতি
সপ্তায় একবার ময়েশ্চারাইজিং, ফেশিয়াল
করতে পারেন। তানা
পারলে মাসে একবার করুন। তাতে
ত্বকের টোন ভালো হয়। বিউটি
পার্লারে না গিয়ে পারলে
ঘরে মধুমাস্ক করুন।
14.
নখগুলো
নিয়মিত কেটে সাফ সুতরো
রাখুন।
15.
হাত
সব সময় ময়েশ্চারাইজ করে
রাখুন। শুষ্ক
হাত আসলে বুড়ো লাগে।
0 Comments