খেজুরের রসের বিভিন্ন রকমের খাবার
শীত মানেই ঘুম থেকে
উঠেই চাই মন নাচানো
পিঠা-পায়েস। শীতের সকালে
খেজুর গাছ থেকে নামানো
খেজুরের রসের কথা ভাবতেই
যেন গলা শুকিয়ে উঠে
রস খাওয়ার তৃষ্ণায়। তবে
খাটি খেজুরের রসের স্বাদটা গ্রহন
করা যায় গ্রামে। খেজুরের
রসে তৈরি হয় নানা
ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন।
নিশ্চয় আপনারও খেতে ইচ্ছে
করছে? চলুন দেখে নেই
খেজুরের রসের তৈরি মজাদার
একটি রান্না।
খেজুরের রসের পায়েস:
উপকরণ:
পোলাউ
এর চাল ২৫০ গ্রাম,
দুধ ১ কেজি, খেজুরের
রস ২ কেজি, দারুচিনি,
এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা, গোলাপ
জল ১ চা চামচ,
কেওরা জল ১ চা
চামচ, কাজু বাদাম ১০
টি, চীনা বাদাম ২০
গ্রাম।
প্রস্তুতপ্রক্রিয়া:
পোলাউ
এর চাল আধ গুড়া
করে রাখতে হবে। ১
কেজি দুধ জ্বাল দিয়ে
ঘন করতে হবে। ২
কেজি খেজুরের রস জ্বালিয়ে ১
কেজি মত করে নিন।এবারে
দুধের মধ্যে এলাচ, দারুচিনি,
লবঙ্গ, তেজপাতা ২টি করে দিন।
দুধের সাথে ঘন খেজুরের
রস মিশিয়ে জ্বাল দিন।
দুধ আর খেজুরের রসের
মিশ্রনে আধ গুড়া করা
পোলাউ এর চাল দিয়ে
সাথে গোলাপ জল ও
কেওরা জল দিয়ে পরপর
নাড়তে থাকুন। চাল সিদ্ধ
হয়ে এলে পরিমাণ মত
ঘন করে নিন। সব
বাদাম হালকা ভেজে আধ
গুড়া করে নিন ভালো
ঘ্রাণ বেড়ুবে। এবার গুড়া করা
বাদামের অর্ধেক পায়েসের সাথে
মিশিয়ে নিন আর বাকি
অংশ পায়েসের উপরে দিয়ে সাজিয়ে
নিন। পরিবেশন করুন গরম গরম
খেজুরের রসের পেয়েস।
সতর্কতা:
*কাঠের
হাতল দিয়ে নাড়ুন।
*চিনি
মেশানোর প্রয়োজন নেই। কারন খেজুরের
রস আনেক মিষ্টি হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: খেজুরের
রস না থাকলে খেজুরের
রসের তৈরি গুড় দুধের
সাথে জ্বাল দিয়েও পায়েস
রান্না করতে পারেন। তবে
দুধ দিতে হবে বেশি।
চালকুমড়ার মিঠাই
উপকরণ:
চালকুমড়া
১টা, খেজুর রস ১
লিটার, দুধ ১ লিটার,
কিশমিশ ১০-১৫টা, তেজপাতা
২টা, দারুচিনি ২-৩ টুকরা,
নারকেল বাটা আধা কাপ,
ঘি ১ টেবিল চামচ।
প্রস্তুতপ্রক্রিয়া:
খেজুর
রস ১ লিটার জ্বাল
দিয়ে ১ কাপ করতে
হবে। চুলায় কড়াইয়ে ঘি
দিয়ে তাতে তেজপাতা, দারুচিনি
ভেঙে দিয়ে বড় করে
টুকরা করা চালকুমড়া দিয়ে
ভাজতে হবে। দুধের সঙ্গে
গুড় মিশিয়ে এতে ঢেলে দিতে
হবে। অল্প আঁচে কিছুক্ষণ
রাখতে হবে। কুমড়া ভালোভাবে
সেদ্ধ হলে বাকি উপকরণ
দিয়ে পাঁচ মিনিট পর
নামাতে হবে। খাবার শেষে
মিষ্টান্ন হিসেবে ভাত ও
অথবা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন।
রস চিতই
উপকরণ:
চালের
গুঁড়া ৩ কাপ, গরম
পানি ৩-৪ কাপ
(পরিমাণমতো), লবণ স্বাদমতো, খেজুরের
ঘন রস ২ কাপ,
তেজপাতা ২টা, নারকেল কোরানো
আধা কাপ।
প্রণালি:
চালের
গুঁড়া, লবণ ও পানি
দিয়ে ব্যাটার তৈরি করতে হবে।
মাটির খলা অথবা লোহার
কড়াই গরম করে গোল
চামচে এক চামচ করে
চালের ব্যাটার ঢেলে ঢেকে দিতে
হবে। চিতই পিঠা হয়ে
গেলে তুলে নিতে হবে।
খেজুরের রসে তেজপাতা ও
নারকেল দিয়ে জ্বাল দিয়ে
শিরা বানাতে হবে। চুলায়
এই শিরায় চিতই পিঠা
দিতে হবে। মাঝারি আঁচে
কয়েক মিনিট রেখে নামাতে
হবে, ঠান্ডা হলে পরিবেশন
করতে হবে।
রসের পায়েস
উপকরণ:
পোলাওয়ের
চাল ১ কাপ, খেজুর
রস ১ লিটার, লবণ
সামান্য, এলাচ ২টা, তেজপাতা
২টা, দারুচিনি ২-৩ টুকরা,
কোরানো নারকেল ১ কাপ।
প্রণািল:
পোলাওয়ের চাল পরিষ্কার করে
ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে
হবে। পাটায় সামান্য ভেঙে
নিতে হবে। খেজুরের রস
চুলায় দিয়ে একবার বলক
এলে তাতে চাল ও
বাকি উপকরণ ঢেলে দিতে
হবে। চাল সেদ্ধ হলে
পায়েস তৈরি হয়ে যাবে।
নামিয়ে ঠান্ডা হলে পরিবেশন
করুন।
টইটম্বুর রসে চুটকি
উপকরণ:
চুটকি
(চুঁই পিঠা) ২ কাপ,
নারকেল কোরানো আধা কাপ,
খেজুরের রস ১ কেজি,
লবণ সামান্য, তেজপাতা ২টা।
প্রণািল:
রসের সঙ্গে সব উপকরণ
ঢেলে চুলায় জ্বাল দিতে
হবে। চুটকি সেদ্ধ হলে
নামাতে হবে। ঠান্ডা করে
পরিবেশন করতে হবে।
বিবিখানা পিঠা
উপকরণ:
চালের
গুঁড়া দেড় কাপ, খেজুরের
ঘন রস ১ কাপ,
ডিম ১টা, লবণ সামান্য,
দুধ ২ টেবিল চামচ,
ঘি ১ চা-চামচ।
প্রণািল:
সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে
ব্যাটারের মতো বানাতে হবে।
কড়াইতে তেল অথবা ঘি
মেখে তাতে এই ব্যাটার
ছড়িয়ে চুলায় প্রথমে মাঝারি
আঁচে ২-৩ মিনিট
রাখতে হবে। পরে অল্প
আঁচে রাখতে হবে। টুথপিক
অথবা চিকন কাঠি দিয়ে
মাঝখানে ঢুকিয়ে দেখতে হবে। টুথপিকে
কিছু লেগে না এলে
বুঝতে হবে পিঠা হয়ে
গেছে। ঠান্ডা হলে কেটে
পরিবেশন।
রস দিয়ে চা
উপকরণ :
খেজুরের
রস ১ কাপ, দুধ
১ কাপ, মালাই ১
টেবিল চামচ, চা পাতা
২ চা চামচ, এলাচ
১টা।
প্রস্তুত প্রণালি :
প্রথমে
দুধ আর খেজুরের রস
জ্বালে বসাতে হবে। বলক
এলে এলাচ দিন। এর
পর চা পাতা দিয়ে
চুলার আঁচ কমিয়ে জ্বাল
দিন ১০-১২ মিনিট।
এবার চা ছেঁকে পরিবেশনের
আগে উপরে মালাই দিয়ে
সুন্দর করে পরিবেশন করুন
রস দিয়ে চা।
রস পাকন
উপকরণ :
মুগডাল
১ কাপ, ময়দা ২
কাপ, লবণ ১ চিমটি,
পানি পরিমাণমতো, তেল (পিঠা ভাজার
জন্য)। সিরার
জন্য খেজুরের রস ১ কেজি,
দারুচিনি ১ টুকরা ও
এলাচ ১টি।
প্রস্তুত প্রণালি :
প্রথমে
মুগডাল শুকনা প্যানে টেলে
নিন। এর পর ডাল
ভালো করে ধুয়ে পরিমাণমতো
পানি দিয়ে সেদ্ধ করে
নিন। ডাল পুরোপুরি গলে
গেলে এর মধ্যে এক
চিমটি লবণ দিন। এবার
ডালে ময়দা ঢেলে দিন।
রুটির খামিরের মতো খামির তৈরি
করুন। খামির সময় নিয়ে
ভালো করে মথে নিন।
মথা শেষ হলে ২
চা চামচ তেল দিয়ে
আবার কিছুক্ষণ মাখুন। বেলার সুবিধার
জন্য খামির দুই ভাগে
ভাগ করে নিয়ে প্রতিটিকে
আধা ইঞ্চি পুরু করে
রুটি বেলুন। রুটি ছুরির
সাহায্যে বিভিন্ন আকারে কেটে খেজুর
কাঁটা বা সুই দিয়ে
পছন্দসই ডিজাইন করে নিন।
এভাবে পিঠা তৈরি করুন।
এবার আলাদা একটি পাত্রে
সিরার সব উপকরণ নিয়ে
চুলায় জ্বাল দিন। সিরা
ভালোভাবে ফুটে উঠলে চামচে
সামান্য সিরা নিয়ে হাতে
ধরে দেখুন সিরা সামান্য
আঠালো হয়েছে কি-না।
আঠালো হলে সিরার পাত্র
চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
এখন পিঠা ভাজার জন্য
পাত্রে তেল গরম দিন।
তেল গরম হলে সব
পিঠা আস্তে আস্তে অনেক
সময় নিয়ে গোল্ডেন ব্রাউন
করে ভেজে নিন। ভাজার
সময় খেয়াল রাখবেন চুলার
আঁচ যেন মাঝারি থাকে।
কারণ আঁচ প্রথমেই বেশি
থাকলে পিঠা দ্রুত লাল
হয়ে যাবে কিন্তু ভেতরে
ঠিকমতো হবে না। পিঠা
ভেজে সঙ্গে সঙ্গে গরম
রসের সিরায় ছেড়ে দিন।
দুই-তিন মিনিট পরই
পিঠাগুলো সিরা থেকে তুলে
প্লেটে রাখুন।
রসের গোলাপ পিঠা
উপকরণ :
চালের
গুঁড়া ২ কাপ, পানি
১ কাপ, লবণ সামান্য,
ডিম ১টি, তেল ৩
চা চামচ, ভাজার জন্য
তেল পরিমাণমতো, সিরার জন্য খেজুরের
রস ১ কেজি।
প্রস্তুত প্রণালি :
১ কাপ পানিতে লবণ
দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এতে
চালের গুঁড়া দিয়ে আঁচ
কমিয়ে ঢেকে দিন। ভালো
করে নেড়েচেড়ে সেদ্ধ করে নিন।
চুলা থেকে নামিয়ে গরম
থাকতেই এতে ডিম ভেঙে
দিন। তেল দিয়ে ভালো
করে মথে নিন। রুটি
বেলে নিন। গোলাকার কিছু
বা স্টিলের গ্লাস দিয়ে কেটে
নিন। ১টি গোলাপ বানাতে
৩টি গোল রুটি পর
পর রেখে তিন দিকে
কেটে নিন।
এবার একটা একটা করে
কাটা অংশ তুলে দুই
কোনা চেপে দিন। এভাবে
সব ফুল বানিয়ে নিন।
রঙিন ফুল করতে চাইলে
গোলায় অল্প ফুড কালার
নেবেন। সিরার জন্য খেজুরের
রস জ্বাল করে একটু
ঘন করে আলাদা রাখুন।
গোলাপ পিঠাগুলো ডুবো তেলে সময়
নিয়ে ভাজুন। অল্প আঁচে
একদিক ভাজা হলে তারপর
উল্টে দেবেন। খেয়াল করে
না ভাজলে ফুলের শেপ
নষ্ট হয়ে যাবে। ভাজা
গোলাপ পিঠা রসের সিরায়
চুবিয়ে পরিবেশন করুন।
0 Comments