ত্বকের
যত্নে ফেসিয়ালের বিকল্প নেই।
সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের
জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ফেসিয়াল করার। কিন্তু
সঠিক উপায়ে ফেসিয়াল না
করলে তা ত্বকের জন্য
হতে পারে হুমকিস্বরূপ।
ভুল নিয়মে ফেসিয়াল করলে
মুখের চামড়া ঝুলে যাওয়া
বা ত্বকে বলিরেখাও দেখা
দিতে পারে। তাই
ফেসিয়াল করার আগে এর
সঠিক নিয়ম জেনে নেয়া
জরুরি।
ফেসিয়াল
বা ফেস ম্যাসাজের ফলে
আমাদের ত্বকের রক্ত চলাচল
ভালো ভাবে হয়, মৃত
কোষ গুলি পরিষ্কার হয়। ত্বকে
অক্সিজেন আদানপ্রদান ঠিক মতো হয়। আসুন
প্রথমে দেখেনি ফেসিয়াল করতে
হলে কি কি পদ্ধতি
অবলম্বন করতে হবে।
পার্ল ফেসিয়াল
পার্ল ফেসিয়াল বর্তমানে বহুল আলোচিত। সব মেয়ের মুখেই শোনা যায় এই পার্ল ফেসিয়ালের কথা। এই ফেসিয়াল এখন গোল্ড ফেসিয়াল বা ফ্রুট ফেসিয়ালের মতই জনপ্রিয়। পার্ল ফেসিয়াল করতে হলে সব সময় যে পার্লারে যেতে হবে তা নয়। ঘরে বসেই আপনি করতে পারেন এই পার্ল ফেসিয়াল আর আনতে পারেন আপনার চেহারায় এক অপরূপ লাবণ্য। তাহলে জেনে নিন আমাদের দেওয়া পার্ল ফেসিয়াল করার নিয়ম।
পার্ল ফেসিয়াল
পার্ল ফেসিয়াল বর্তমানে বহুল আলোচিত। সব মেয়ের মুখেই শোনা যায় এই পার্ল ফেসিয়ালের কথা। এই ফেসিয়াল এখন গোল্ড ফেসিয়াল বা ফ্রুট ফেসিয়ালের মতই জনপ্রিয়। পার্ল ফেসিয়াল করতে হলে সব সময় যে পার্লারে যেতে হবে তা নয়। ঘরে বসেই আপনি করতে পারেন এই পার্ল ফেসিয়াল আর আনতে পারেন আপনার চেহারায় এক অপরূপ লাবণ্য। তাহলে জেনে নিন আমাদের দেওয়া পার্ল ফেসিয়াল করার নিয়ম।
প্রথম ধাপ
ফেসিয়াল
করার জন্য প্রথমে আমাদের
মুখটা ভালো করে পরিষ্কার
করে নিতে হবে।
এর জন্য ফ্রেশ ওয়াশ
ব্যবহার করা যেতে পারে। বা
ঠান্ডা দুধ, লেবুর রস
ও সামান্য লবন মিশিয়ে মিশ্রণ
তৈরী করতে হবে।
এবার তুলো দিয়ে ওই
মিশ্রণটিকে সারা মুখেও গলার
অংশে হালকা করে ঘষে
লাগিয়ে নিতে হবে।
এবার হালকা গরম পানি
দিয়ে মুখটি পরিষ্কার করে
নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এবার স্ক্রাবার দিয়ে ভালো করে
ত্বকের গভীরে পরিষ্কার করতে
হবে যাতে ফেস ম্যাসাজ
করলে তা ভেতরের লেয়ার
পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এর জন্য যে কোনো
স্ক্রাবার ব্যবহার করা যেতে পারে
বা দই ,ব্যাসন ও
সামান্য মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি
ভালো করে মুখে ও
গলার অংশে ৫ টি
৭ মিনিট রেখে হাতে
অল্প পানি নিয়ে ভালো
হালকা করে ঘষে ধুয়ে
ফেলতে হবে।
তৃতীয় ধাপ
এরপর ত্বককে ভেতর থেকে
ঠান্ডা করার জন্য মুখ
ও গলার অংশে ১
থেকে দু চামচ মধু
ঠান্ডা দুধের সাথে মিশিয়ে
মুখে ও গলার অংশে
১০ থেকে ১৫ মিনিট
রেখে দিতে হবে।এরপর ঠান্ডা জলে
মুখ ভালো করে ধুয়ে
ফেলতে হবে। এতে
ত্বক নমনীয় ও ঠান্ডা
হবার সাথে সাথে স্কিন
টোনকে কিছুটা হালকা করে
দেবে।
চতুর্থ ধাপ
আমাদের
স্কিনের কোষগুলি ঘাম জমে বা
ধুলো বালি লেগে অনেক
সময় বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলিকে
পরিষ্কার করে বা খুলে
দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর
জন্য সসপ্যান এ পানি গরম
করতে হবে। পানি
ফুটে গেলে ৫ মিনিট
পর একটি ভারী টাওয়াল
জড়িয়ে গরম জলের ভাপ
নিতে হবে। ৫
মিনিট নিলেই আমাদের স্কিনপোর
গুলি পরিষ্কার হয়ে যাবে বা
খুলে যাবে।
পন্চম ধাপ
টোনিং
জেনে নিন ঘরোয় টোনিং প্রস্তুতি করন:
শসার রস, এক কাপ
ওটমিল ও এক টেবিল
চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে
ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার
এই মিশ্রণটা পুরো মুখে মেখে
তিরিশ মিনিট রেখে হালকা
গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
একটা ডিমের সাদা অংশের
সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস
মিশিয়ে এই মিশ্রণটা ২০
মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে
ফেলুন।
একটি টমেটো ভালো করে
চটকে নিন। সঙ্গে
আধা চা চামচ মধু
মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই
প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আমাদের
ত্বকের দাগগুলো সব মিলিয়ে যাবে।
সমপরিমাণ
ভিনেগার ও গোলাপ পানি
মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন
টোনার। যা
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে খুবই উপযোগী।
তুলা দিয়ে টোনার মুখে
লাগান কিন্তু ভুলেও ঘষবেন
না। চোখের
কাছে লাগাবেন না।
ষস্ঠ ধাপ
এবার সময় হলো ফেসপ্যাক
মুখে লাগিয়ে নেওয়ার।
বাড়িতে বানানো যে কোনো
ফেস প্যাক মুখে ও
গলার অংশে ভালো করে
মেখে নিতে হবে।
এবার অল্প অল্প করে
পানি নিয়ে ও প্রায়
জন মতো মিশ্রণ টি
নিয়ে খুব ভালো করে
মুখে ম্যাসাজ করতে হবে।
যতক্ষন না সেটি আমাদের
ত্বকের গোচিরে পৌঁছে যাচ্ছে
ততক্ষন হাতের তালুটি দিয়ে
গোলগোল করে ঘুরিয়ে নিচের
দিক থেকে ওপরের দিকে
টেনে ম্যাসাজ করতে হবে।
১৫ মিনিট ম্যাসাজ করার
পর একটি নরম কাপড়
প্রথমে হালকা গরম জলে
ভিজিয়ে মুখ ভালো করে
মুছে নিতে হবে।
তারপর ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে
ভালো করে মুছে নিতে
হবে।
শেষ ধাপ
এবার সব শেষে আপনার
ব্যবহৃত ক্রিম মুখে ভালোকরে
মেখে নিতে হবে।
এভাবেই খুব সহজেই বাড়িতে
ফেসিয়াল করা যেতে পারে।
আসুন জেনে নি কত
গুলি ঘরোয়া ফেসপ্যাক যেগুলি
আপনি বাড়িতে ফেসিয়াল করার
সময় ম্যাসাজ করার জন্য ব্যবহার
করতে পারবেন দই।
দই এর ফেসপ্যাক
১ কাপ দই একটি
নরম সাদা পাতলা কাপড়ে
নিয়ে কাপড়ের মুখটি ভালোকরে
আটকে ৫ থেকে ৬
ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। দই
থেকে পানি আলাদা হয়ে
গেলে শুধু ক্রিম অংশটি
থাকবে। ক্রিম
দই একটি পাত্রে নিয়ে
তার সাথে ২ ফোঁটা
অলিভ অয়েল,২ ফোঁটা
আলমন্ড অয়েল এবং ২
চা চামচ মধু ভালো
করে মিশিয়ে নিন।
এই ফেসপ্যাক টি রুক্ষ ত্বকের
জন্য অত্যন্ত ভালো।
বেদানা ফেসপ্যাক
২ বড় চামচ বেদানার
দানা এবং ৬ টিকে
৮ বড় চামচ ওটমিল
মিক্সিতে ভালোকরে বেটে নিতে হবে। এবার
মিশ্রণটি একটি পাত্রে নিয়ে
ওই পাত্রে ২ বড়
চামচ মধু ও ৩
বড় চামচ বাটারমিল্ক ভালো
করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই
ফেসপ্যাক টি ত্বকের নমনীয়তা
রক্ষা করে এবং অকাল
বার্দ্ধক্য জনিত লক্ষণগুলি থেকে
ত্বককে রক্ষা করে।
কলা ও দই এর ফেসপ্যাক
কলা আমাদের ত্বকের জন্য
অত্যন্ত ভালো। এটি
আমাদে ত্বক কে নরম
ও ভেতর থেকে নমনীয়
করে তোলে। একটি
মাঝারি মাপের পাকা কলাকে
ভালোকরে চটকে মেখে নিন। এবার
১/২ কাপ টক
দই ও ২ বড়
চামচ মধু ভালো করে
কলার সাথে মিশিয়ে নিন। ঘরোয়া
ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবে এটি
অত্যন্ত ভালো। এটি
সব রকম( রুক্ষ ও
তৈলাক্ত) ত্বকের জন্য ভালো।
ব্যাসন দুধ ও হলুদের ফেসপ্যাক
এই ফেসিয়াল মাস্ক বা ফেসপ্যাক
টি বিশেষ করে তৈলাক্ত
ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ৩-৪ চামচ ব্যাসন
,একটি অর্ধেক পাতিলেবুর রস
,১/২ চামচ হলুদ
বাটা (কাঁচা হলুদ )ও
৪-৫ বড় চামচ
কাঁচা ঠান্ডা ভালো করে
মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরী করে ফেসিয়ালের
পদ্ধতি গুলি মতো ম্যাসাজ
করলে ত্বক গভীর ভাবে
পরিষ্কার হবে এবং মুখের
অতিরিক্ত তেল ও মৃত
কোষ গুলি পরিষ্কার হয়ে
যাবে।
মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক
২-৩ বড় চামচ
মুলতানি মাটি গোলাপ জলে
ভিজিয়ে রাখতে হবে।
এবার এতে ৩ -৪
ফোটা লেবুর রস ও
১ – দু চামচ দুধ
মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ বানিয়ে
নিন। এই
মিশ্রণটিও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অত্যন্ত
ভালো।
গ্রিন টি অ্যালোভেরার ফেসপ্যাক
ফুটন্ত
গরম পানিতে ১ চামচ
গ্রিন টি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে
রাখুন। ১টি
বাটিতে ২ চামচ মুলতানি
মাটি নিন। তাতে
২-৩ চামচ গ্রিন
টি ভেজানো পানি মেশান। অ্যালোভেরার
আবরণ সরিয়ে রস বের
করে নিন। এবার
মুলতানি মাটি ও গ্রিন
টির মিশ্রণে মিলিয়ে নিন।
প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০
মিনিট রাখুন, তারপর পরিষ্কার
পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে
ফেলুন।
শসার ফেসপ্যাক
একটা শসা কুড়িয়ে, সেটা
থেকে রসটা বের করে
এক চামচ চিনি ভাল
করে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ত্বকে
মেখে দশ মিনিট রেখে
ধুয়ে নিন। শসার
রস ত্বককে হাইড্রেট করে,
ফলে ত্বক অনেক মসৃণ
ও উজ্জ্বল হয়।
মসুর ডাল, দুধ ও আমণ্ড তেল ফেসপ্যাক
দু’চামচ মসুর ডাল
সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে
মসুর ডাল বেটে তার
মধ্যে অল্প দুধ ও
আমণ্ড তেল মিশিয়ে একটা
মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই
প্যাকটা মুখে মেখে দশ
মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার
পানি দিয়ে ঘষে ঘষে
ধুয়ে নিন।
বি: দ্র: যাদের সেনসিটিভ ত্বক তাদের জন্য এই ফেসিয়াল উপযোগী নয়।
0 Comments