কাজের জন্য প্রতিদিন বাইরে
যাওয়া লাগে আমাদের।
কাজ সম্পন্ন হলেও ত্বকের কিন্তু
বারোটা বাজে। তাই
সুন্দর ও সুস্থ ত্বকের
জন্য প্রয়োজন ত্বকের সঠিক পরিচর্যা। আর
ত্বক পরিষ্কার রাখতে ফেসিয়ালের কোনো
বিকল্প নেই। ত্বকের
যত্নে ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে
ফেসিয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
তবে সব ধরনের ত্বকের
জন্য সব ধরনের ফেসিয়াল
মানানসই নয় । বাসায়
বা পার্লারে যেখানেই ফেসিয়াল করুন না কেন,
আপনার ত্বকে কী ধরনের
ফেসিয়াল মানানসই তা জেনে নেওয়া
প্রয়োজন এবং এর
সঠিক নিয়ম কী।
আমাদের ত্বক অনেক সংবেদনশীল। তাই
না জেনে ফেসিয়াল করা
একদমই ঠিক না।
সাধারণত তিন ধরনের ত্বক রয়েছে, যেমন- তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র ত্বক।
এ সম্পর্কে একজন বিউটিশিয়ান বলেন, অনেকেরই ধারণা একবার ফেসিয়াল করেই ফর্সা হয়ে যাবে। আসলে ফেসিয়াল মানুষকে ফর্সা করে না, ত্বক সুস্থ ও পরিষ্কার রাখে। তবে কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বককে পরিষ্কার করে আর কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বকের সমস্যা সমাধান করে।
জেনে নিন কোন ধরনের ত্বকে কেমন ফেসিয়াল করা প্রয়োজন-
ন্যাচারাল ফেসিয়াল:
ত্বকের যত্নে কেমিক্যালের ব্যবহার
এখন অনেকটাই কমে গেছে ।
ন্যাচারাল ফেসিয়াল সাধারণ হার্বাল উপাদান
দিয়ে করা হয়, তাই
যে কোন ত্বকের জন্য
এটি অনেক কার্যকরী ।
এটিকে আবার হার্বাল অথবা
রেগুলার ফেসিয়াল ও বলা হয়
। ত্বক সুস্থ
রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে থাকে ।
হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল: কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে চেহারায় দ্রুত উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল খুবই উপকারী । এটিকে আবার ব্রাইটেনিং ফেসিয়াল ও বলা হয়ে থাকে ।
পার্ল ফেসিয়াল : পার্ল ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্য প্রযোজ্য, তবে স্পর্শকাতর ত্বকে এই ফেসিয়াল বেশ কার্যকর। একটু বয়স বেশি হলে পার্ল ফেসিয়াল করা উচিত। পার্ল ফেসিয়াল করার পর ত্বকে অফহোয়াইট একটা আভা আসে এবং অনেক দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ডায়মন্ড ফেসিয়াল: এই ফেসিয়াল আনইভেন স্কিন টোনের উন্নতি করে বয়সের ছাপ লুকাতে সাহায্য করে। রোদে পোড়া কালো ছোপ, ব্রণের দাগ, রুক্ষ শুষ্ক ত্বক এগুলোর চিকিৎসায় ডায়মন্ড ফেসিয়ালের সমকক্ষ আর কিছুই নেই।ডায়মন্ড ফেসিয়াল ত্বকের অতিরিক্ত টক্সিন ধুয়ে-মুছে ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বক অতি দ্রুত লাবণ্যতা ফিরে পায় । এতে ত্বকের মরা চামড়া ঝরে পড়ে আর ত্বক হয়ে ওঠে টানটান। এই ফেসিয়াল ত্বকের ব্লাড ফ্লো বাড়িয়ে দেয়, ত্বকের ডিপ ক্লিন করে, রিঙ্কেল কমিয়ে আনে, ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে।
সিলভার ফেসিয়াল: চেহারায় তাৎক্ষণিক জৌলুস আনতে সিলভার ফেসিয়ালের সমকক্ষ আর কোন ফেসিয়াল নেই। এই ফেসিয়াল শুধু পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে না সেই সঙ্গে ব্ল্যাকহেডস দূর করে।
ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল: ফুল শুধু গন্ধই ছড়ায় না, ফেসিয়ালের জন্য ও এটি অনেক উপকারী ।
ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল মূলত: গোলাপ, জবা ফুলের পাপড়ি বা নির্যাস থেকে করা হয় । ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এটি ও বেশ কার্যকরী ।
অ্যালোভেরা ফেসিয়াল : অতিরিক্ত শুষ্ক, রাফ বা সেনসেটিভ ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা ফেসিয়াল অনেক উপকারী। এটি ব্রণের সমস্যা দূর করে, সানবার্ন ভালো করে, সেই সঙ্গে বয়সের ছাপও লুকিয়ে ফেলে। ত্বকের পরিচর্যার জন্যও অ্যালোভেরা ফেসিয়াল বেশ কার্যকর।
হার্বাল ফেসিয়াল: হারবাল ফেসিয়ালে প্রাকৃতিক উপাদান আছে তাই এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকে লুকিয়ে থাকা ধূলো ময়লা, বিষাক্ত পদার্থ বের করে আনার ক্ষমতা রাখে। এই ফেসিয়ালের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, যদিনা কোন নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি আপনি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন।
অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল : অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, যাদের রিঙ্কেল পরার সম্ভাবনা খুব বেশি তারা এই ফেসিয়াল করবেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ভাঁজ পড়া বা ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যা তৈরি হয়। অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল এসব সমস্যা সমাধান করে আপনার ত্বকে মসৃণতা ফিরিয়ে আনবে।
স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল : ওজন বাড়লে, গর্ভাবস্থা বা বয়সজনিত কারণে আমাদের মুখের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে ত্বক ঝুলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে ত্বকের টানটান ভাব কমে যায়। এ ক্ষেত্রে স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল খুবই উপকারী।
আইস কিউব ফেসিয়াল: বরফ ত্বকের ব্লাড ফ্লো বাড়িয়ে দেয় কয়েকশো গুণ আর মলিন ত্বকে ছড়িয়ে দেয় গোলাপি আভা। আইস ত্বকের রন্ধ্রের সাইজ ছোট করে, ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনে, ত্বকের চুলকানি ও ফোলা ভাব কমায়, চোখের নীচের কালো দাগও দূর করে। আইস কিউব ফেসিয়াল করার জন্য বয়সের কোন ভেদাভেদ নেই। তবে যদি আপনার আ্যাজমার সমস্যা থেকে থাকে বা ঠান্ডাতে এলার্জি থেকে থাকে অবশ্যই এই ফেসিয়াল পরিহার করবেন।
অ্যারোমা ফেসিয়াল : অ্যারোমা ফেসিয়াল বিয়ের কনেদের জন্য কার্যকরী। অর্থাৎ যাঁরা কিছু দিন পর বিয়ের কনে সাজতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য এই ফেসিয়াল উপযোগী এবং এই ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফেসিয়াল: যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য এই ফেসিয়াল খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক ধরনের কেমিক্যাল যা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব আর পলিউশানের কারণে চেহারার মলিন ভাব, মুখের দাগ ও বয়সের ছাপ দূর করে ত্বকের চাকচিক্য বাড়িয়ে দেয় । এটি আন ইভেন টোন দূর করে গায়ের রঙ কে উজ্জ্বল করে। এটা লোমকূপ থেকে সব ময়লা বের করে আনে।
পিম্পেল ফেসিয়াল : এই ফেসিয়াল তৈলাক্ত ত্বকের এবং ব্রনে আক্রান্তদের জন্য উপকারী। বড় ছোট সবাই এটা করতে পারেন। নিয়মিত মাসে দুবার এই ফেসিয়াল করলে পিম্পেল আস্তে আস্তে কমে আসবে।
ফ্রুট ফেসিয়াল : বিভিন্ন ফলের ফেসিয়াল আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী যাকে আমরা সাধারণত ফ্রুট ফেসিয়াল বলে থাকি। এই ফেসিয়ালে যে মিক্সড ফ্রুট ক্রিম ব্যবহার করা হয় তা সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো। বিশেষ করে ফ্রুট ফেসিয়াল ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে। ত্বক টান টান রাখে।
কোলাজেন ফেসিয়াল: কোলাজেন ফেসিয়ালে কোলাজেন প্রোটিন ব্যবহার করা হয় ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন কোলাজেন ভাঙতে শুরু করে ত্বকে বলিরেখা আর বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করে। কোলাজেন ফেসিয়ালের মাধ্যমে এই বয়সের ছাপ লুকিয়ে ত্বকে তার উজ্জ্বলতা দেখা দেয়।
এরোমাথেরাপি ফেসিয়াল: ত্বকের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল রাখা এবং ক্লান্তি দূর করতে এই ফেসিয়াল অত্যন্ত কার্যকর। এ ফেসিয়ালে এসেনসিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। এ এসেনসিয়াল অয়েল খুব দ্রুত আপনার ক্লান্তি দূর করবে এবং নার্ভকে শান্ত করবে। এই ফেসিয়ালে ম্যাসেজ করতে হবে ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট প্রেশার পয়েন্টে।
ফেসিয়ালের সঠিক সময় : আমরা অনেকেই মনে করে থাকি, ২৫-৩০ বছরের আগে ফেসিয়াল করা ঠিক না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ফেসিয়াল আমাদের ত্বককে পরিষ্কার ও টান টান রাখে। তাই নিয়মিত ফেসিয়াল করলে বয়সজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে যেকোনো বয়সেই ফেসিয়াল করানো যায়। কিন্তু ট্রিটমেন্ট বেইজ ফেসিয়ালগুলো একটু বয়স হলেই করানো ভালো। সাধারণত ট্র্রিটমেন্ট বেইজ ফেসিয়ালগুলো তিন-চার মাসের হিসেবে করানো হয়। আর ত্বক পরিষ্কার রাখার ফেসিয়াল ১৫ দিন পরপর করলে ভালো হয়।
সাধারণত তিন ধরনের ত্বক রয়েছে, যেমন- তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র ত্বক।
এ সম্পর্কে একজন বিউটিশিয়ান বলেন, অনেকেরই ধারণা একবার ফেসিয়াল করেই ফর্সা হয়ে যাবে। আসলে ফেসিয়াল মানুষকে ফর্সা করে না, ত্বক সুস্থ ও পরিষ্কার রাখে। তবে কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বককে পরিষ্কার করে আর কিছু ফেসিয়াল আছে যা ত্বকের সমস্যা সমাধান করে।
জেনে নিন কোন ধরনের ত্বকে কেমন ফেসিয়াল করা প্রয়োজন-
গ্লোল্ড ফেসিয়াল : সেনসেটিভ ত্বক
ছাড়া যে কোন ত্বকের
জন্যই এই ফেসিয়াল উপকারী।
এটা সব বয়সী ত্বকের
জন্য নেওয়া যাবে। ত্বকের
পুরনো লাবণ্য, উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে গোল্ড
ফেসিয়ালের জুড়ি নেই। ত্বকে
লুকিয়ে থাকা ধূলো ময়লা,
বিষাক্ত পদার্থ বের করে
আনার ক্ষমতা সোনার অসীম।
নতুন কোষ জন্মানোর জন্য
সোনার অবদান অনেক। বিশেষ
করে বিয়ের কনের জন্য
গোল্ড ফেসিয়াল খুব ভালো ফলাফল
দেবে। কারণ এটা ত্বকে
সুন্দর একটা সোনালি আভা
এনে দেয়।
হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল: কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে চেহারায় দ্রুত উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল খুবই উপকারী । এটিকে আবার ব্রাইটেনিং ফেসিয়াল ও বলা হয়ে থাকে ।
পার্ল ফেসিয়াল : পার্ল ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্য প্রযোজ্য, তবে স্পর্শকাতর ত্বকে এই ফেসিয়াল বেশ কার্যকর। একটু বয়স বেশি হলে পার্ল ফেসিয়াল করা উচিত। পার্ল ফেসিয়াল করার পর ত্বকে অফহোয়াইট একটা আভা আসে এবং অনেক দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ডায়মন্ড ফেসিয়াল: এই ফেসিয়াল আনইভেন স্কিন টোনের উন্নতি করে বয়সের ছাপ লুকাতে সাহায্য করে। রোদে পোড়া কালো ছোপ, ব্রণের দাগ, রুক্ষ শুষ্ক ত্বক এগুলোর চিকিৎসায় ডায়মন্ড ফেসিয়ালের সমকক্ষ আর কিছুই নেই।ডায়মন্ড ফেসিয়াল ত্বকের অতিরিক্ত টক্সিন ধুয়ে-মুছে ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বক অতি দ্রুত লাবণ্যতা ফিরে পায় । এতে ত্বকের মরা চামড়া ঝরে পড়ে আর ত্বক হয়ে ওঠে টানটান। এই ফেসিয়াল ত্বকের ব্লাড ফ্লো বাড়িয়ে দেয়, ত্বকের ডিপ ক্লিন করে, রিঙ্কেল কমিয়ে আনে, ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে।
সিলভার ফেসিয়াল: চেহারায় তাৎক্ষণিক জৌলুস আনতে সিলভার ফেসিয়ালের সমকক্ষ আর কোন ফেসিয়াল নেই। এই ফেসিয়াল শুধু পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে না সেই সঙ্গে ব্ল্যাকহেডস দূর করে।
ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল: ফুল শুধু গন্ধই ছড়ায় না, ফেসিয়ালের জন্য ও এটি অনেক উপকারী ।
ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল মূলত: গোলাপ, জবা ফুলের পাপড়ি বা নির্যাস থেকে করা হয় । ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এটি ও বেশ কার্যকরী ।
অ্যালোভেরা ফেসিয়াল : অতিরিক্ত শুষ্ক, রাফ বা সেনসেটিভ ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা ফেসিয়াল অনেক উপকারী। এটি ব্রণের সমস্যা দূর করে, সানবার্ন ভালো করে, সেই সঙ্গে বয়সের ছাপও লুকিয়ে ফেলে। ত্বকের পরিচর্যার জন্যও অ্যালোভেরা ফেসিয়াল বেশ কার্যকর।
হার্বাল ফেসিয়াল: হারবাল ফেসিয়ালে প্রাকৃতিক উপাদান আছে তাই এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকে লুকিয়ে থাকা ধূলো ময়লা, বিষাক্ত পদার্থ বের করে আনার ক্ষমতা রাখে। এই ফেসিয়ালের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, যদিনা কোন নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি আপনি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন।
অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল : অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, যাদের রিঙ্কেল পরার সম্ভাবনা খুব বেশি তারা এই ফেসিয়াল করবেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ভাঁজ পড়া বা ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যা তৈরি হয়। অ্যান্টি-রিংকেল ফেসিয়াল এসব সমস্যা সমাধান করে আপনার ত্বকে মসৃণতা ফিরিয়ে আনবে।
স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল : ওজন বাড়লে, গর্ভাবস্থা বা বয়সজনিত কারণে আমাদের মুখের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে ত্বক ঝুলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে ত্বকের টানটান ভাব কমে যায়। এ ক্ষেত্রে স্কিন টাইটেনিং ফেসিয়াল খুবই উপকারী।
আইস কিউব ফেসিয়াল: বরফ ত্বকের ব্লাড ফ্লো বাড়িয়ে দেয় কয়েকশো গুণ আর মলিন ত্বকে ছড়িয়ে দেয় গোলাপি আভা। আইস ত্বকের রন্ধ্রের সাইজ ছোট করে, ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনে, ত্বকের চুলকানি ও ফোলা ভাব কমায়, চোখের নীচের কালো দাগও দূর করে। আইস কিউব ফেসিয়াল করার জন্য বয়সের কোন ভেদাভেদ নেই। তবে যদি আপনার আ্যাজমার সমস্যা থেকে থাকে বা ঠান্ডাতে এলার্জি থেকে থাকে অবশ্যই এই ফেসিয়াল পরিহার করবেন।
অ্যারোমা ফেসিয়াল : অ্যারোমা ফেসিয়াল বিয়ের কনেদের জন্য কার্যকরী। অর্থাৎ যাঁরা কিছু দিন পর বিয়ের কনে সাজতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য এই ফেসিয়াল উপযোগী এবং এই ফেসিয়াল সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফেসিয়াল: যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য এই ফেসিয়াল খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক ধরনের কেমিক্যাল যা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব আর পলিউশানের কারণে চেহারার মলিন ভাব, মুখের দাগ ও বয়সের ছাপ দূর করে ত্বকের চাকচিক্য বাড়িয়ে দেয় । এটি আন ইভেন টোন দূর করে গায়ের রঙ কে উজ্জ্বল করে। এটা লোমকূপ থেকে সব ময়লা বের করে আনে।
পিম্পেল ফেসিয়াল : এই ফেসিয়াল তৈলাক্ত ত্বকের এবং ব্রনে আক্রান্তদের জন্য উপকারী। বড় ছোট সবাই এটা করতে পারেন। নিয়মিত মাসে দুবার এই ফেসিয়াল করলে পিম্পেল আস্তে আস্তে কমে আসবে।
ফ্রুট ফেসিয়াল : বিভিন্ন ফলের ফেসিয়াল আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী যাকে আমরা সাধারণত ফ্রুট ফেসিয়াল বলে থাকি। এই ফেসিয়ালে যে মিক্সড ফ্রুট ক্রিম ব্যবহার করা হয় তা সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো। বিশেষ করে ফ্রুট ফেসিয়াল ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে। ত্বক টান টান রাখে।
কোলাজেন ফেসিয়াল: কোলাজেন ফেসিয়ালে কোলাজেন প্রোটিন ব্যবহার করা হয় ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন কোলাজেন ভাঙতে শুরু করে ত্বকে বলিরেখা আর বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করে। কোলাজেন ফেসিয়ালের মাধ্যমে এই বয়সের ছাপ লুকিয়ে ত্বকে তার উজ্জ্বলতা দেখা দেয়।
এরোমাথেরাপি ফেসিয়াল: ত্বকের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল রাখা এবং ক্লান্তি দূর করতে এই ফেসিয়াল অত্যন্ত কার্যকর। এ ফেসিয়ালে এসেনসিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। এ এসেনসিয়াল অয়েল খুব দ্রুত আপনার ক্লান্তি দূর করবে এবং নার্ভকে শান্ত করবে। এই ফেসিয়ালে ম্যাসেজ করতে হবে ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট প্রেশার পয়েন্টে।
ফেসিয়ালের সঠিক সময় : আমরা অনেকেই মনে করে থাকি, ২৫-৩০ বছরের আগে ফেসিয়াল করা ঠিক না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ফেসিয়াল আমাদের ত্বককে পরিষ্কার ও টান টান রাখে। তাই নিয়মিত ফেসিয়াল করলে বয়সজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে যেকোনো বয়সেই ফেসিয়াল করানো যায়। কিন্তু ট্রিটমেন্ট বেইজ ফেসিয়ালগুলো একটু বয়স হলেই করানো ভালো। সাধারণত ট্র্রিটমেন্ট বেইজ ফেসিয়ালগুলো তিন-চার মাসের হিসেবে করানো হয়। আর ত্বক পরিষ্কার রাখার ফেসিয়াল ১৫ দিন পরপর করলে ভালো হয়।
0 Comments